আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-১৮ আসনে নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে প্রচারণায় বাধা ও নেতাকর্মীদের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এই আসনে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের প্রার্থী আরিফুল ইসলামের পক্ষে গণসংযোগ করার সময় লিফলেট ছিনিয়ে নেওয়া ও কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাজধানীর খিলক্ষেত থানার বিভিন্ন এলাকায় এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর খিলক্ষেত থানার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় একদল লোক তাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং কর্মীদের কাছ থেকে প্রচারপত্র ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া বরুয়া শেলুন পাড়ার বায়তুল আমান জামে মসজিদের সামনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের লিফলেট বিতরণকালে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক কর্মী জোটের সদস্যদের বাধা দেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক নেতার নেতৃত্বে একদল লোক জোরপূর্বক প্রচারপত্র কেড়ে নেয় এবং আগামী ১২ তারিখ ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য ভোটার ও কর্মীদের শাসানো হয়।
একই দিন বিকেলের দিকে বরুয়া বাজার এলাকায় জোটের নির্বাচনী প্রচারণার কাজে নিয়োজিত একটি মাইকিং রিকশা আটকে রাখার ঘটনা ঘটে। জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে নারী কর্মীদের নির্বাচনী গণসংযোগে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের উদ্দেশ্যে অশালীন মন্তব্য ও কটূক্তি করা হয়েছে।
এনসিপির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নির্বাচনী মাঠ থেকে তাদের কর্মীদের সরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকি ভবিষ্যতে ওই এলাকায় পুনরায় প্রচারণায় গেলে শারীরিক লাঞ্ছনার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা-১৮ আসনের ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, “দেশ যখন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে, তখন একটি বিশেষ গোষ্ঠী নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের পক্ষে জনসমর্থন ও গণজোয়ার দেখে ভীত হয়ে তারা এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।” তিনি অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ঢাকা-১৮ আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পেলেও এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রত্যাশা করছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা।
রিপোর্টারের নাম 

























