ঢাকা ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

জনগণ চাইলে শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে আসায় বাধা নেই: তারেক রহমান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের জনগণ যদি গ্রহণ করে এবং স্বাগত জানায়, তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফিরে আসার অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

শেখ হাসিনার সন্তানরা বিদেশ থেকে ফিরে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে কেউ রাজনীতি করার অধিকার রাখেন, তবে তার প্রধান শর্ত হলো জনসমর্থন। যদি মানুষ তাদের গ্রহণ করে, তবে তাদের রাজনীতি করতে কোনো বাধা থাকা উচিত নয়।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। অন্যদিকে, তার সন্তানরা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে দেশে বিভিন্ন মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান। নির্বাচনের পর প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ‘ঐক্য সরকার’ গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে যদি সরকার গঠন করা হয়, তবে সংসদে কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে কারা ভূমিকা রাখবে? সুস্থ গণতন্ত্রের স্বার্থেই শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা প্রয়োজন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রস্তুতির বিষয়ে তারেক রহমান জানান, তার দল এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভের ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯২টিতে বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং বাকি আসনগুলো জোটের শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে সুনির্দিষ্ট কতটি আসন তারা পেতে পারেন, সে বিষয়ে কোনো সংখ্যা উল্লেখ না করলেও তিনি বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত আসন আমাদের থাকবে।”

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তারেক রহমান তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। ভারত নাকি চীন—ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কোন দিকে ঝুঁকবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য। দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গঠনমূলক প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্বের হাত বাড়াবে বিএনপি।

তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো। কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি ঝুঁকে পড়া নয়, বরং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং দেশের স্বার্থ রক্ষাই হবে আমাদের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪৮ দিন পর হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’

জনগণ চাইলে শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে আসায় বাধা নেই: তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০৩:১০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের জনগণ যদি গ্রহণ করে এবং স্বাগত জানায়, তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফিরে আসার অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

শেখ হাসিনার সন্তানরা বিদেশ থেকে ফিরে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে কেউ রাজনীতি করার অধিকার রাখেন, তবে তার প্রধান শর্ত হলো জনসমর্থন। যদি মানুষ তাদের গ্রহণ করে, তবে তাদের রাজনীতি করতে কোনো বাধা থাকা উচিত নয়।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। অন্যদিকে, তার সন্তানরা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে দেশে বিভিন্ন মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান। নির্বাচনের পর প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ‘ঐক্য সরকার’ গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে যদি সরকার গঠন করা হয়, তবে সংসদে কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে কারা ভূমিকা রাখবে? সুস্থ গণতন্ত্রের স্বার্থেই শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা প্রয়োজন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রস্তুতির বিষয়ে তারেক রহমান জানান, তার দল এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভের ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯২টিতে বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং বাকি আসনগুলো জোটের শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে সুনির্দিষ্ট কতটি আসন তারা পেতে পারেন, সে বিষয়ে কোনো সংখ্যা উল্লেখ না করলেও তিনি বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত আসন আমাদের থাকবে।”

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তারেক রহমান তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। ভারত নাকি চীন—ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কোন দিকে ঝুঁকবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য। দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গঠনমূলক প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্বের হাত বাড়াবে বিএনপি।

তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো। কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি ঝুঁকে পড়া নয়, বরং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং দেশের স্বার্থ রক্ষাই হবে আমাদের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি।”