বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে তিনি চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে দেবেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ব্যবসায়ী, সাধারণ হকার বা কোনো নাগরিককেই আর রাতের ঘুম হারাম করতে হবে না বা চোখের জল ফেলতে হবে না। ক্ষমতা পেলে জনগণের সম্পদ ও ইজ্জতের পাহারাদার হিসেবে কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি নিজেকে মালিক নয়, বরং সেবক হিসেবে পরিচয় দেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে হবিগঞ্জ নিউফিল্ড মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের ৫৪ বছর অতিবাহিত করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে একটি জাতি ঘুরে দাঁড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ পেত। তিনি ভিয়েতনামের উদাহরণ টেনে বলেন, যারা অনেক পরে স্বাধীনতা লাভ করেও আজ উন্নয়নের রোল মডেল হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন কেন হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মামলাবাজি এবং দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা। নারীরাও ঘরে বাইরে কোথাও নিরাপদ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, যে দেশের মানুষের স্পর্শে কপাল বদলে যাওয়ার কথা, সেই দেশের মানুষের কপাল কেন বদলাচ্ছে না, তার কারণ হলো অসৎ নেতৃত্ব। তিনি অভিযোগ করেন, নেতারা ভোটের সময় আউলিয়া সেজে জনগণের কাছে আসেন, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলেই তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
ব্যাংকসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে দেশের ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে, যা ১৮ কোটি মানুষের অর্থ। তিনি আরও বলেন, যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নেয়, তারাই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মামলাবাজি, হামলাবাজি এবং লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত থাকে।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যারা নারীদের অসম্মান করে, তাদের ইজ্জত কেড়ে নিতে চায়, তাদের নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দিতে হবে। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও মায়ের ইজ্জত রক্ষা করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
বিচার বিভাগের সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে। সেখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর জন্য একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে এবং টাকার কাছে বিচার বিক্রি হবে না।
হবিগঞ্জের প্রাকৃতিক সম্পদ ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাওর, বাওর, বিল-নদী, মৎস্য সম্পদ, খনিজ সম্পদ, বনজ সম্পদ, চা বাগানসহ যা কিছু প্রয়োজন, তার সবই এই জেলায় রয়েছে। কিন্তু যুগ যুগ ধরে এখানে সৎ মায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তন চান তিনি।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে দুটি ভোট হবে। একটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং অন্যটি ‘দাঁড়িপাল্লায়’। তিনি ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ এবং ‘দাঁড়িপাল্লা’য় ভোট দিয়ে পুরনো রাজনীতিকে বদলানোর আহ্বান জানান।
জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী মহসিন আহমেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, হবিগঞ্জ-১ আসনের জোটের প্রার্থী মাওলনা সিরাজুল ইসলাম, হবিগঞ্জ-২ আসনের জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, হবিগঞ্জ-৪ আসনের জোটের প্রার্থী ড. আহমদ আব্দুল কাদেরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
রিপোর্টারের নাম 
























