দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতিসহ ১৫ জন নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাওলানা লোকমান হোসেনকে জেলা শাখার নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে মাদারীপুর-১ আসনে সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা এবং মাদারীপুর-২ আসনে মুফতি আব্দুস সোবাহানকে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রার্থী করা হয়। তবে অভিযোগ ওঠে, জেলা কমিটির সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে অন্য একটি সংগঠনের প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই ঘটনাকে সংগঠনের আদর্শ ও নীতি পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করে জেলা কার্যনির্বাহী কমিটি।
শুক্রবার রাত ৯টার দিকে শহরের আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরামর্শক্রমে ১৫ নেতার পদ স্থগিতের ঘোষণা দেন জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মিসবাহুল ইসলাম।
পদ স্থগিত হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—জেলা সভাপতি মাওলানা হাবীব আহমদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মাওলানা ফখরুল ইসলাম, মুফতি উসামা খান মাদানী, মাওলানা ইমরান হুসাইন খান, মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ ফাহমী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ জালাল খান ও মাওলানা মারুফ বিল্লাহ সাক্বাফী। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রাজৈর উপজেলা সভাপতি মাওলানা আবুল বাশার, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এনায়েতুল্লাহ এবং শিবচর উপজেলা সভাপতি মাওলানা শাহ আলম তালুকদারের নাম উল্লেখযোগ্য।
সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা লোকমান হোসেন জানান, দলীয় প্রার্থীর প্রচারণা বর্জন করে অন্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থগিতাদেশপ্রাপ্ত নেতাদের আপাতত দলীয় কোনো পরিচয় বা পদ ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কেন চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামীতে লিখিতভাবে জেলা কমিটির কাছে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মিজবাহুল ইসলাম বলেন, “দলীয় প্রার্থীর সাথে বেইমানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্ত নেতারা যদি তাদের কর্মকাণ্ডের সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারেন, তবে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হবে।”
উক্ত সভায় জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পদ স্থগিতের এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























