মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে, যার মধ্যে সিংহভাগই অভিবাসী কর্মী। সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে সংঘটিত হামলায় অন্তত ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনই বিদেশি নাগরিক। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি ও দূতাবাস লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
পাকিস্তানের নাগরিক মুরিব জামান, যিনি দুই দশক ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গাড়িচালক হিসেবে কাজ করে মাসে ৩০০ ডলার দেশে পাঠাতেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। পরিবারের কাছে তার গ্রামের চেয়ে আবুধাবি অনেক বেশি নিরাপদ মনে হলেও, যুদ্ধের নির্মমতা তাকে ছাড়েনি। মুরিবের চাচাতো ভাই ফরমান খান জানিয়েছেন, পাকিস্তান থেকে বহু পরিবার নিরাপদ জীবনের আশায় প্রিয়জনদের মধ্যপ্রাচ্যে পাঠায়, কিন্তু এখন সেখানেও তারা নিরাপদ নয়।
৪০ বছর বয়সী জামানের মতো লাখ লাখ অভিবাসী নারী-পুরুষ উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করেন। তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ এই দেশগুলো মূলত বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল। আমেরিকা-ইসরায়েলের আক্রমণের পর থেকে ইরান প্রতিশোধমূলকভাবে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, যার চড়ামূল্য দিতে হচ্ছে এই অভিবাসীদের।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান এবং বাহরাইনে কমপক্ষে ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই বিদেশি। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ১০ মার্চ একটি আবাসিক ভবনে হামলায় ২৯ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। ইরান অবশ্য দাবি করেছে, তারা বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নয়, বরং উপসাগরীয় দেশগুলোর আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি এবং দূতাবাস লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলায় পাঁচ তারকা হোটেলে আগুন লাগা এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো বেসামরিক অবকাঠামোতেও আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে।
রিপোর্টারের নাম 



















