যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ‘সবচেয়ে তীব্র ও ভারী অভিযান’ শুরু করেছে। ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় দেশগুলো বিমান হামলা ও সতর্কতা জারি করার পরই তেহরান এই নতুন করে ব্যাপক হামলা শুরু করল।
ইরান দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত তীব্রতর হওয়ার ১২তম দিনে তারা এই সর্বাত্মক অভিযান শুরু করেছে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে তীব্র অভিযান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানো হয়েছে বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। বুধবার ভোরে এই হামলার খবর নিশ্চিত করে ইরান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ইরানের রাষ্ট্রীয় নিউজ এজেন্সি কর্তৃক প্রকাশিত ফুটেজের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্য দেখা গেছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত বিবৃতিতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তারা তেল আবিবের দক্ষিণে অবস্থিত হায়েলা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের মতো হামলা চালিয়েছে। এছাড়া, বির ইয়াকুব, পশ্চিম জেরুসালেম ও হাইফার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাও তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল।
আইআরজিসি আরও জানায়, তারা ইরাকের ইরবিলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং বাহরাইনের মানামায় যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনে মোতায়েনকৃত মার্কিন সেনাদের ওপরও হামলা হয়েছে। কুয়েতের আল-উদাইরি হেলিকপ্টার ঘাঁটি, মোহাম্মদ আল-আহমদ নৌঘাঁটি এবং আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত একটি নৌঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, উত্তরাঞ্চলীয় বন্দর শহর হাইফায় একটি নৌঘাঁটি ও রাডার সিস্টেমে হামলার কথা জানিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। বুধবার ভোরে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে গোলাগুলি বিনিময় হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজেও আক্রমণ করেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে তেহরানের এই আক্রমণ আঞ্চলিক তেল শিল্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রিপোর্টারের নাম 



















