চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সেনাবাহিনীর এক সফল অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ মো. কামাল (৩৫) ওরফে ‘পিচ্চি কামাল’ নামে এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার উত্তর ঢেমশা ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, মাদকদ্রব্য ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চলমান নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ২টার দিকে সেনাবাহিনীর ৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির একটি বিশেষ টহল দল উত্তর ঢেমশা ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়। ক্যাপ্টেন ইফানার নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে আরও অংশ নেন ক্যাপ্টেন সাব্বির, লেফটেন্যান্ট সাদ ও লেফটেন্যান্ট মিথুনসহ সংশ্লিষ্ট ফোর্সের সদস্যরা।
অভিযান চলাকালে মাদক কারবারি মো. কামালের বসতবাড়িতে আকস্মিক তল্লাশি চালায় সেনাবাহিনী। এ সময় ঘরের ভেতর থেকে ৩ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তল্লাশির পরিধি আরও বাড়িয়ে বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি শটগান ও এক রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেন সেনাসদস্যরা।
আটককৃত মো. কামাল সাতকানিয়ার পদুয়া এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি ওই অঞ্চলের একজন চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়ভাবে ‘পিচ্চি কামাল’ নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
সাতকানিয়া সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন শাকিবুজ্জামান পারভেজ জানান, আটককৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারকৃত মাদক ও অবৈধ অস্ত্রসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এলাকাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে সেনাবাহিনীর এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, কুখ্যাত এই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে। সেনাবাহিনীর এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চললে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
রিপোর্টারের নাম 























