ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে হামলা ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ: ছাত্রশিবির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৭:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

## শিরোনাম: শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের হামলা: ছাত্রশিবির কর্তৃক ফ্যাসিবাদী আচরণের তীব্র নিন্দা

ঢাকা: রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ আয়োজিত শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিপেটা, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ’ বলে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের দাবিতে পরিচালিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের এমন আক্রমণাত্মক ভূমিকা কেবল নিন্দনীয়ই নয়, বরং এটি পুরোনো ফ্যাসিবাদী আচরণেরই প্রতিচ্ছবি। তারা অভিযোগ করেন, ছাত্র-জনতা যে ফ্যাসিবাদকে অতীতে প্রতিহত করেছে, পুলিশ আজও সেই একই কায়দায় রাজপথে রক্ত ঝরিয়ে ফ্যাসিবাদের সেবাদাস হিসেবে কাজ করছে।

তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচার প্রাপ্তির ব্যাপারে চরম উদাসীনতা দেখাচ্ছে। ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারকালে গত ১২ ডিসেম্বর গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা ওসমান হাদির হত্যার ৫৬ দিন পার হলেও মামলার কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। উপরন্তু, মামলার শুনানি ইতোমধ্যে পাঁচবার পেছানো হয়েছে, যা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও রহস্যজনক আচরণকেই স্পষ্ট করে। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর গঠিত সরকারের আমলেও যদি বিচারপ্রার্থী পরিবারগুলোকে রাজপথে মার খেতে হয়, তবে এই সরকারের নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বলে তারা মন্তব্য করেন। প্রশাসনের এই গড়িমসি এবং খুনিদের মদদ দেওয়ার যেকোনো চেষ্টাকে কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।

শিবির নেতারা জোর দাবি জানিয়ে বলেন, শহীদ ওসমান হাদির বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার পেছনে দেশি-বিদেশি কোনো আধিপত্যবাদী চক্রের গভীর ষড়যন্ত্র আছে কিনা, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে। অবিলম্বে আজকের হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ কর্তৃক উত্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তারা আরও বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ নেতাকর্মীরা জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই পুলিশ অতর্কিতভাবে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং লাঠিপেটা করে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং ঢাবি শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ অনেকেই গুরুতর আহত হন।

ছাত্রশিবির নেতারা আজকের হামলায় আহত নেতাকর্মীদের দ্রুত সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া কামনা করেন এবং সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দেন যে, অবিলম্বে দমন-পীড়ন বন্ধ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না করা হলে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে কঠিন প্রতিরোধের ডাক দিতে বাধ্য হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কারের ধীরগতিতে আইএমএফের কিস্তি স্থগিত, বাংলাদেশের ঋণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে হামলা ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ: ছাত্রশিবির

আপডেট সময় : ০৮:০৭:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## শিরোনাম: শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের হামলা: ছাত্রশিবির কর্তৃক ফ্যাসিবাদী আচরণের তীব্র নিন্দা

ঢাকা: রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ আয়োজিত শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিপেটা, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ’ বলে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের দাবিতে পরিচালিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের এমন আক্রমণাত্মক ভূমিকা কেবল নিন্দনীয়ই নয়, বরং এটি পুরোনো ফ্যাসিবাদী আচরণেরই প্রতিচ্ছবি। তারা অভিযোগ করেন, ছাত্র-জনতা যে ফ্যাসিবাদকে অতীতে প্রতিহত করেছে, পুলিশ আজও সেই একই কায়দায় রাজপথে রক্ত ঝরিয়ে ফ্যাসিবাদের সেবাদাস হিসেবে কাজ করছে।

তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচার প্রাপ্তির ব্যাপারে চরম উদাসীনতা দেখাচ্ছে। ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারকালে গত ১২ ডিসেম্বর গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা ওসমান হাদির হত্যার ৫৬ দিন পার হলেও মামলার কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। উপরন্তু, মামলার শুনানি ইতোমধ্যে পাঁচবার পেছানো হয়েছে, যা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও রহস্যজনক আচরণকেই স্পষ্ট করে। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর গঠিত সরকারের আমলেও যদি বিচারপ্রার্থী পরিবারগুলোকে রাজপথে মার খেতে হয়, তবে এই সরকারের নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বলে তারা মন্তব্য করেন। প্রশাসনের এই গড়িমসি এবং খুনিদের মদদ দেওয়ার যেকোনো চেষ্টাকে কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।

শিবির নেতারা জোর দাবি জানিয়ে বলেন, শহীদ ওসমান হাদির বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার পেছনে দেশি-বিদেশি কোনো আধিপত্যবাদী চক্রের গভীর ষড়যন্ত্র আছে কিনা, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে। অবিলম্বে আজকের হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ কর্তৃক উত্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তারা আরও বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ নেতাকর্মীরা জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই পুলিশ অতর্কিতভাবে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং লাঠিপেটা করে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং ঢাবি শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ অনেকেই গুরুতর আহত হন।

ছাত্রশিবির নেতারা আজকের হামলায় আহত নেতাকর্মীদের দ্রুত সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া কামনা করেন এবং সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দেন যে, অবিলম্বে দমন-পীড়ন বন্ধ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না করা হলে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে কঠিন প্রতিরোধের ডাক দিতে বাধ্য হবে।