ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার বিএনপির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। “সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দলটি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উপর বিশেষ জোর দিয়েছে। তাদের ইশতেহারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতকে কাজে লাগিয়ে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে আইসিটি খাতকে উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।

আইসিটি খাত বিষয়ক বিএনপির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাগুলো হলো:

এআই, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার হাব: বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার উৎপাদনের একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। এই লক্ষ্য পূরণে সাইবার নিরাপত্তা ও এআই সহ পাঁচটি বিশেষ খাতে দুই লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন ক্ষেত্রে আট লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট: দেশব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানগুলোতে বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সাবমেরিন ক্যাবল এবং লো-অরবিট স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৯৯.৯৯৯ শতাংশ নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগ: দেশীয় সফটওয়্যার, অ্যাপ ও হার্ডওয়্যার পণ্যগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার লক্ষ্যে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগকে আরও জোরদার করা হবে।

সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা: একটি জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র স্থাপন এবং শক্তিশালী নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে দেশের সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। একই সাথে সাইবার বুলিং প্রতিরোধ এবং নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ক্যাশ-লাইট অর্থনীতি: পেপ্যাল সহ আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা চালু এবং একটি জাতীয় ই-ওয়ালেট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্যাশ-লাইট অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে।

এআই-চালিত ডাটা সেন্টার: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ডাটা সেন্টার ক্যাম্পাস, এজ ডাটা সেন্টার এবং ক্লাউড প্রযুক্তির সমন্বয়ে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা হবে।

স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনে সহায়তা: নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য ১০ বছরের করমুক্ত সুবিধা, ভর্তুকিযুক্ত ঋণ এবং একটি স্টার্টআপ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জাতীয় ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম: নতুন স্টার্টআপগুলোতে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নাগরিক ও প্রবাসীদের অংশগ্রহণে আইনি কাঠামোর আওতায় একটি জাতীয় ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে।

উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ও সাশ্রয়ী সেবা: টেলিকম খাতকে উন্মুক্ত করে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে, যার ফলে ইন্টারনেট সেবার মূল্য হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, কর্মসংস্থানমুখী এবং উদ্ভাবনী অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কারের ধীরগতিতে আইএমএফের কিস্তি স্থগিত, বাংলাদেশের ঋণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার বিএনপির

আপডেট সময় : ০৮:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। “সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দলটি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উপর বিশেষ জোর দিয়েছে। তাদের ইশতেহারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতকে কাজে লাগিয়ে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে আইসিটি খাতকে উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।

আইসিটি খাত বিষয়ক বিএনপির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাগুলো হলো:

এআই, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার হাব: বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার উৎপাদনের একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। এই লক্ষ্য পূরণে সাইবার নিরাপত্তা ও এআই সহ পাঁচটি বিশেষ খাতে দুই লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন ক্ষেত্রে আট লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট: দেশব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানগুলোতে বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সাবমেরিন ক্যাবল এবং লো-অরবিট স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৯৯.৯৯৯ শতাংশ নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগ: দেশীয় সফটওয়্যার, অ্যাপ ও হার্ডওয়্যার পণ্যগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার লক্ষ্যে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগকে আরও জোরদার করা হবে।

সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা: একটি জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র স্থাপন এবং শক্তিশালী নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে দেশের সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। একই সাথে সাইবার বুলিং প্রতিরোধ এবং নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ক্যাশ-লাইট অর্থনীতি: পেপ্যাল সহ আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা চালু এবং একটি জাতীয় ই-ওয়ালেট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্যাশ-লাইট অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে।

এআই-চালিত ডাটা সেন্টার: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ডাটা সেন্টার ক্যাম্পাস, এজ ডাটা সেন্টার এবং ক্লাউড প্রযুক্তির সমন্বয়ে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা হবে।

স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনে সহায়তা: নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য ১০ বছরের করমুক্ত সুবিধা, ভর্তুকিযুক্ত ঋণ এবং একটি স্টার্টআপ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জাতীয় ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম: নতুন স্টার্টআপগুলোতে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নাগরিক ও প্রবাসীদের অংশগ্রহণে আইনি কাঠামোর আওতায় একটি জাতীয় ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে।

উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ও সাশ্রয়ী সেবা: টেলিকম খাতকে উন্মুক্ত করে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে, যার ফলে ইন্টারনেট সেবার মূল্য হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, কর্মসংস্থানমুখী এবং উদ্ভাবনী অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে।