ঢাকা ০১:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

রাষ্ট্র সংস্কার ও অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্রের লক্ষ্যে জেএসডির ১০ দফা ইশতেহার ঘোষণা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) একটি বিস্তারিত ১০ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন এই ইশতেহার পেশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কেবল সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং এটি ছিল শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। কিন্তু আজও রাষ্ট্র কাঠামোতে ঔপনিবেশিক এবং বৈষম্যমূলক ধারা বিদ্যমান। জেএসডি এমন একটি অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় যেখানে শ্রমজীবী, নারী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা এবং সাধারণ মানুষ কেবল ভোটার হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয় অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন জোর দিয়ে বলেন যে, এই ইশতেহার কেবল সরকার পরিবর্তনের একটি রূপরেখা নয়, বরং এটি রাষ্ট্র সংস্কারের এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। তিনি ৭১ ও ২৪-এর শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য এই ১০ দফা প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে জেএসডি সহ-সভাপতি মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা: হেলালুজ্জামান আহমেদ, নাগরিক ঐক্য’র সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, বাংলাদেশ জাসদ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ উচ্চতর পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান রিজু, এবং ভাসানী জনশক্তি পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বাবুল বিশ্বাস অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও জেএসডি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাইনুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল তারেক, এস এম শামসুল আলম নিক্সন, মোশারেফ হোসেন মন্টু, মো. মোস্তফা কামাল, ইকবাল খান জাহিদ, আব্দুল মান্নান মুন্সী, এবং বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, সরকারি কর্মচারী নেতা, যুব সংগঠন ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেএসডির ১০ দফার মূল প্রস্তাবনাগুলো হলো:

দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট জাতীয় সংসদ: ৩০০ সদস্যের নিম্নকক্ষ এলাকাভিত্তিক নির্বাচিত হবে এবং ২০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ শ্রমজীবী, কর্মজীবী, পেশাজীবী, নারী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্যদের নিয়ে গঠিত হবে। এর পাশাপাশি নয়টি প্রদেশ ও প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হবে।
জাতীয় ঐকমত্য সরকার: প্রধানমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী নিকটতম সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে নির্বাচিত হবেন।
প্রার্থী প্রত্যাহার (Recall) ও জনগণের আইন উদ্যোগ: ১৫% ভোটারের লিখিত আবেদনে নতুন আইন প্রণয়নের সুযোগ থাকবে।
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার: রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্বাচিত নির্দলীয় বা অদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে।
স্বাধীন নির্বাচন কমিশন: রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে।
ফেডারেল সরকার ও স্ব-শাসিত উপজেলা: মেট্রোপলিটন সরকার, নয়টি প্রদেশ, নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকার এবং স্থানীয় স্ব-শাসিত প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করা হবে।
জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল (NEC): শ্রম, কর্ম ও পেশার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাজেট ও নীতি প্রণয়ন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রদান করবে।
জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল (NSC): রাষ্ট্রপতি অধীনে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এবং সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধানদের নিয়ে এটি গঠিত হবে।
সাংবিধানিক আদালত: সাত সদস্যবিশিষ্ট এই আদালত সাংবিধানিক জটিলতার চূড়ান্ত সমাধান দেবে।
স্থায়ী বিচার বিভাগীয় কাউন্সিল: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, হাইকোর্ট ও উপজেলা পর্যায়ে এর বিস্তৃতি এবং মানবাধিকার বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
সংবিধান ও শাসন সংস্কার: প্রধানমন্ত্রীর দুই মেয়াদের সীমা নির্ধারণ, ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার, এবং বিচারক নিয়োগ ও ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়ন করা হবে।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবহন সংস্কার: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং নিরাপদ সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
গণমাধ্যম ও জাতীয় সমঝোতা কমিশন: স্বাধীন, বিবিধ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম নিশ্চিতকরণ এবং সংঘাত নিরসনের জন্য একটি জাতীয় সমঝোতা কমিশন গঠন করা হবে।
পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার: পুলিশকে মানবিক ও জবাবদিহিমূলক করা হবে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
পরিবেশ ও জলবায়ু উদ্যোগ: জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, পরিকল্পিত বনায়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় আইনগত বাধ্যবাধকতা আনা হবে।
তথ্য ও প্রযুক্তি: ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন: সকল স্তরে নারীর সমঅংশীদারিত্ব, সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপদ জ্বালানি: আধুনিক প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন, বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা হবে।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যুব-উন্নয়ন: মাইক্রোক্রেডিট, কৃষি ও শিল্প উন্নয়ন, প্রবাসী বিনিয়োগ আকর্ষণ, উপজেলা পর্যায়ে শিল্পাঞ্চল স্থাপন, যুব প্রশিক্ষণ এবং পাঁচ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জেএসডি তাদের এই ১০ দফা বাস্তবায়নে গণভোটে “হ্যাঁ” এবং তাদের প্রতীক “তারা” মার্কায় দেশবাসীর প্রতি ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কারের ধীরগতিতে আইএমএফের কিস্তি স্থগিত, বাংলাদেশের ঋণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

রাষ্ট্র সংস্কার ও অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্রের লক্ষ্যে জেএসডির ১০ দফা ইশতেহার ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৭:৪২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) একটি বিস্তারিত ১০ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন এই ইশতেহার পেশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কেবল সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং এটি ছিল শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। কিন্তু আজও রাষ্ট্র কাঠামোতে ঔপনিবেশিক এবং বৈষম্যমূলক ধারা বিদ্যমান। জেএসডি এমন একটি অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় যেখানে শ্রমজীবী, নারী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা এবং সাধারণ মানুষ কেবল ভোটার হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয় অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন জোর দিয়ে বলেন যে, এই ইশতেহার কেবল সরকার পরিবর্তনের একটি রূপরেখা নয়, বরং এটি রাষ্ট্র সংস্কারের এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। তিনি ৭১ ও ২৪-এর শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য এই ১০ দফা প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে জেএসডি সহ-সভাপতি মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা: হেলালুজ্জামান আহমেদ, নাগরিক ঐক্য’র সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, বাংলাদেশ জাসদ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ উচ্চতর পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান রিজু, এবং ভাসানী জনশক্তি পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বাবুল বিশ্বাস অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও জেএসডি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাইনুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল তারেক, এস এম শামসুল আলম নিক্সন, মোশারেফ হোসেন মন্টু, মো. মোস্তফা কামাল, ইকবাল খান জাহিদ, আব্দুল মান্নান মুন্সী, এবং বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, সরকারি কর্মচারী নেতা, যুব সংগঠন ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেএসডির ১০ দফার মূল প্রস্তাবনাগুলো হলো:

দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট জাতীয় সংসদ: ৩০০ সদস্যের নিম্নকক্ষ এলাকাভিত্তিক নির্বাচিত হবে এবং ২০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ শ্রমজীবী, কর্মজীবী, পেশাজীবী, নারী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্যদের নিয়ে গঠিত হবে। এর পাশাপাশি নয়টি প্রদেশ ও প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হবে।
জাতীয় ঐকমত্য সরকার: প্রধানমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী নিকটতম সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে নির্বাচিত হবেন।
প্রার্থী প্রত্যাহার (Recall) ও জনগণের আইন উদ্যোগ: ১৫% ভোটারের লিখিত আবেদনে নতুন আইন প্রণয়নের সুযোগ থাকবে।
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার: রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্বাচিত নির্দলীয় বা অদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে।
স্বাধীন নির্বাচন কমিশন: রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে।
ফেডারেল সরকার ও স্ব-শাসিত উপজেলা: মেট্রোপলিটন সরকার, নয়টি প্রদেশ, নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকার এবং স্থানীয় স্ব-শাসিত প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করা হবে।
জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল (NEC): শ্রম, কর্ম ও পেশার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাজেট ও নীতি প্রণয়ন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রদান করবে।
জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল (NSC): রাষ্ট্রপতি অধীনে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এবং সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধানদের নিয়ে এটি গঠিত হবে।
সাংবিধানিক আদালত: সাত সদস্যবিশিষ্ট এই আদালত সাংবিধানিক জটিলতার চূড়ান্ত সমাধান দেবে।
স্থায়ী বিচার বিভাগীয় কাউন্সিল: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, হাইকোর্ট ও উপজেলা পর্যায়ে এর বিস্তৃতি এবং মানবাধিকার বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
সংবিধান ও শাসন সংস্কার: প্রধানমন্ত্রীর দুই মেয়াদের সীমা নির্ধারণ, ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার, এবং বিচারক নিয়োগ ও ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়ন করা হবে।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবহন সংস্কার: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং নিরাপদ সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
গণমাধ্যম ও জাতীয় সমঝোতা কমিশন: স্বাধীন, বিবিধ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম নিশ্চিতকরণ এবং সংঘাত নিরসনের জন্য একটি জাতীয় সমঝোতা কমিশন গঠন করা হবে।
পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার: পুলিশকে মানবিক ও জবাবদিহিমূলক করা হবে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
পরিবেশ ও জলবায়ু উদ্যোগ: জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, পরিকল্পিত বনায়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় আইনগত বাধ্যবাধকতা আনা হবে।
তথ্য ও প্রযুক্তি: ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন: সকল স্তরে নারীর সমঅংশীদারিত্ব, সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপদ জ্বালানি: আধুনিক প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন, বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা হবে।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যুব-উন্নয়ন: মাইক্রোক্রেডিট, কৃষি ও শিল্প উন্নয়ন, প্রবাসী বিনিয়োগ আকর্ষণ, উপজেলা পর্যায়ে শিল্পাঞ্চল স্থাপন, যুব প্রশিক্ষণ এবং পাঁচ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জেএসডি তাদের এই ১০ দফা বাস্তবায়নে গণভোটে “হ্যাঁ” এবং তাদের প্রতীক “তারা” মার্কায় দেশবাসীর প্রতি ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।