ঢাকা ০১:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

‘ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার বিএনপির, ঘোষণা করা হলো নির্বাচনি ইশতেহার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৮:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

মহান আল্লাহর প্রতি অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস রেখে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুদৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত এই নির্বাচনি ইশতেহারে ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ এই প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে, যার মূলমন্ত্র হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান দলের এই বিস্তারিত ইশতেহার জনগণের সামনে তুলে ধরেন। আসন্ন নির্বাচনে তারেক রহমান দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক ইশতেহার।

এই ইশতেহারকে পাঁচটি প্রধান অংশে বিভক্ত করে মোট ৫১টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা আগামী পাঁচ বছরের জন্য তুলে ধরা হয়েছে, যা বাস্তবায়নের জন্য নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনি নয় প্রধান প্রতিশ্রুতি:

১. প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সুরক্ষা: ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এই আর্থিক সহায়তা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে।

২. কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি: ‘কৃষক কার্ড’ এর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। এর পাশাপাশি ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বীমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি এবং কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা ভোগ করবেন।

৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের উপর জোর দেওয়া হবে।

৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা: বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়নের মাধ্যমে একটি আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে, পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা: তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে তাদের যুক্ত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা হবে। সরকারি নিয়োগে মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

৬. ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা: দেশপ্রেমী জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার করা হবে।

৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি: সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করা হবে।

৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ: আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধি করা হবে।

বিএনপি এই ইশতেহারকে কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি হিসেবে নয়, বরং একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা হিসেবে উল্লেখ করেছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই তাদের রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা – এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। জনগণের রায়ে নির্বাচিত হলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে যেখানে ভোটের মর্যাদা রক্ষিত হবে, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান ঘটবে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিক গর্বের সাথে বলতে পারবে – ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

ইশতেহারের ৩টি মৌলিক ভিত্তি:

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফার রাষ্ট্রদর্শন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা – এই ধারাবাহিকতাই বিএনপির রাজনীতির মৌলিক ভিত্তি। বিএনপির রাজনীতি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ভিত্তিক এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের আলোকে এই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সামাজিক পরিকল্পনা কর্মসংস্থান, সুশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, সুষম উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, আইনের শাসন এবং সামাজিক ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দেশকে বাস্তব উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে দলটির নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত “We have a plan” এর আলোকে বিএনপি একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় এই ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ড. মাহদী আমিন এবং মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুম্মন, শায়রুল কবির খান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী বিভিন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইশতেহার ঘোষণা করতেন। তবে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন। বিএনপি সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত দশম ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কারের ধীরগতিতে আইএমএফের কিস্তি স্থগিত, বাংলাদেশের ঋণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

‘ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার বিএনপির, ঘোষণা করা হলো নির্বাচনি ইশতেহার

আপডেট সময় : ০৭:১৮:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহান আল্লাহর প্রতি অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস রেখে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুদৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত এই নির্বাচনি ইশতেহারে ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ এই প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে, যার মূলমন্ত্র হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান দলের এই বিস্তারিত ইশতেহার জনগণের সামনে তুলে ধরেন। আসন্ন নির্বাচনে তারেক রহমান দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক ইশতেহার।

এই ইশতেহারকে পাঁচটি প্রধান অংশে বিভক্ত করে মোট ৫১টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা আগামী পাঁচ বছরের জন্য তুলে ধরা হয়েছে, যা বাস্তবায়নের জন্য নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনি নয় প্রধান প্রতিশ্রুতি:

১. প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সুরক্ষা: ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এই আর্থিক সহায়তা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে।

২. কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি: ‘কৃষক কার্ড’ এর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। এর পাশাপাশি ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বীমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি এবং কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা ভোগ করবেন।

৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের উপর জোর দেওয়া হবে।

৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা: বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়নের মাধ্যমে একটি আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে, পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা: তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে তাদের যুক্ত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা হবে। সরকারি নিয়োগে মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

৬. ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা: দেশপ্রেমী জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার করা হবে।

৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি: সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করা হবে।

৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ: আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধি করা হবে।

বিএনপি এই ইশতেহারকে কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি হিসেবে নয়, বরং একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা হিসেবে উল্লেখ করেছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই তাদের রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা – এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। জনগণের রায়ে নির্বাচিত হলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে যেখানে ভোটের মর্যাদা রক্ষিত হবে, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান ঘটবে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিক গর্বের সাথে বলতে পারবে – ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

ইশতেহারের ৩টি মৌলিক ভিত্তি:

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফার রাষ্ট্রদর্শন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা – এই ধারাবাহিকতাই বিএনপির রাজনীতির মৌলিক ভিত্তি। বিএনপির রাজনীতি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ভিত্তিক এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের আলোকে এই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সামাজিক পরিকল্পনা কর্মসংস্থান, সুশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, সুষম উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, আইনের শাসন এবং সামাজিক ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দেশকে বাস্তব উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে দলটির নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত “We have a plan” এর আলোকে বিএনপি একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় এই ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ড. মাহদী আমিন এবং মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুম্মন, শায়রুল কবির খান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী বিভিন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইশতেহার ঘোষণা করতেন। তবে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন। বিএনপি সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত দশম ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল।