দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দুর্নীতি নির্মূলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার গঠন করতে পারলে বাংলাদেশে দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলতে ছয়টি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দলের নির্বাচনী ইশতেহারে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়।
দুর্নীতি দমনে বিএনপির ছয় পরিকল্পনা:
১. পদ্ধতিগত ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: বিএনপি দুর্নীতির সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করবে না। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়া এই ব্যাধিকে প্রতিহত করতে পদ্ধতিগত ও আইনি সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং দুর্নীতি দমন আইন সংস্কারের পাশাপাশি পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে দুদকের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা হবে। বিএনপি মনে করে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গৃহীত দুদক সংস্কার যথেষ্ট নয় এবং আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
২. উন্মুক্ত দরপত্র ও রিয়েল-টাইম অডিট প্রতিষ্ঠা: একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সর্বক্ষেত্রে পূর্ণ স্বচ্ছতা, উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া, সম্পদ বিবরণী দাখিল, রিয়েল-টাইম অডিট এবং শক্তিশালী তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।
৩. ‘সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’ প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন: ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হয়রানি ও জটিলতা নিরসনকল্পে ‘সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’ এবং ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর পাশাপাশি সম্পূর্ণ ডিজিটাল কর্মপ্রবাহ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে ঘুষ বা অবৈধ লেনদেন নিরসনে শারীরিক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৪. সংবিধানের অধীনে ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগ: সংবিধানের অধীনে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে একজন ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগ করা হবে। উল্লেখ্য, বিএনপি সরকারের আমলে সৃষ্ট ‘কর ন্যায়পাল’ পদটি কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল এবং এবারও সেই পদটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৫. সরকারি ব্যয় ও প্রকল্পের ‘পারফরম্যান্স অডিট’ বাস্তবায়ন: সরকারি ব্যয় ও প্রকল্প ব্যয়ের ক্ষেত্রে কেবল আর্থিক অডিটই নয়, ‘পারফরম্যান্স অডিট’ বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে সরকারি ব্যয়ের জবাবদিহিতা বাড়বে এবং প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
৬. অর্থপাচার রোধ ও পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা: বিগত সময়ে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে এবং চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, প্রশাসনিক ও আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বিএনপি মনে করে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক প্রকাশিত শ্বেতপত্রটি অসম্পূর্ণ হওয়ায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ অত্যন্ত জরুরি।
বিএনপি আরও বলেছে, অন্যায়কারী কোনো নির্দিষ্ট দলের পরিচয়ে পরিচিত হতে পারে না। অন্যায় যে করে, সে শুধুই অন্যায়কারী। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে অন্যায়কারীদের আশ্রয়, প্রশ্রয় ও সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, অন্যায়কে যারা সহযোগিতা করে, তারাও অন্যায়কারী।
রিপোর্টারের নাম 
























