ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: বিএনপি’র নির্বাচনী অঙ্গীকার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। দলটি জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হলে দুর্নীতির সঙ্গে কোনো প্রকার আপস করা হবে না এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুদূরপ্রসারী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন দলটির চেয়ারম্যান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, বিএনপি সুশাসনকে উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। শাসন ও বিচার ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হবে ন্যায়বিচার। সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মেধা, স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে। দুর্নীতি ও অর্থপাচার দমন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বিএনপির সুশাসন দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু। দুর্নীতি দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ একসময় বিশ্বজুড়ে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যে কলঙ্ক বহন করেছিল, তা থেকে মুক্তি লাভ করে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার সময় দেশটি দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ছিল উল্লেখ করে ইশতেহারে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার অনেক আগেই বাংলাদেশ এই অপবাদ থেকে মুক্ত হয়ে ‘ইমার্জিং টাইপার’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিল।

এই ধারাবাহিকতায়, বিএনপি দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করবে না বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য পদ্ধতিগত ও আইনগত সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। উন্মুক্ত দরপত্র, রিয়েল টাইম অডিট, প্রকল্পের ‘পারফরম্যান্স অডিট’ এবং সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া, অর্থপাচার রোধ এবং পূর্ববর্তী সময়ে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

দলটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, আইনের শাসনের নামে কোনো প্রকার কালা-কানুন বা বেআইনি নিপীড়ন সহ্য করা হবে না। ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪’ বাতিল করা হবে। অতীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং সে সকল হত্যাকাণ্ডের অনুসন্ধান শুরু করে দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে। গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মেধাভিত্তিক একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে নিশ্চিত করা হবে।

প্রশাসনিক সংস্থার কমিশন গঠন ও পিএসসি-কে শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক ও দলীয়করণমুক্ত জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত বিচার প্রাপ্তি এবং বিচার সেবার আধুনিকায়ন করা হবে। বিচারপতি নিয়োগ আইন প্রণয়ন ও জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করা হবে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে, পুলিশকে জনবান্ধব ও সেবাবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। অনলাইন অভিযোগ দায়ের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং পুলিশ কমিশন আইন পুনঃনিরীক্ষণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কারের ধীরগতিতে আইএমএফের কিস্তি স্থগিত, বাংলাদেশের ঋণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: বিএনপি’র নির্বাচনী অঙ্গীকার

আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। দলটি জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হলে দুর্নীতির সঙ্গে কোনো প্রকার আপস করা হবে না এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুদূরপ্রসারী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন দলটির চেয়ারম্যান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, বিএনপি সুশাসনকে উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। শাসন ও বিচার ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হবে ন্যায়বিচার। সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মেধা, স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে। দুর্নীতি ও অর্থপাচার দমন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বিএনপির সুশাসন দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু। দুর্নীতি দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ একসময় বিশ্বজুড়ে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যে কলঙ্ক বহন করেছিল, তা থেকে মুক্তি লাভ করে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার সময় দেশটি দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ছিল উল্লেখ করে ইশতেহারে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার অনেক আগেই বাংলাদেশ এই অপবাদ থেকে মুক্ত হয়ে ‘ইমার্জিং টাইপার’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিল।

এই ধারাবাহিকতায়, বিএনপি দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করবে না বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য পদ্ধতিগত ও আইনগত সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। উন্মুক্ত দরপত্র, রিয়েল টাইম অডিট, প্রকল্পের ‘পারফরম্যান্স অডিট’ এবং সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া, অর্থপাচার রোধ এবং পূর্ববর্তী সময়ে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

দলটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, আইনের শাসনের নামে কোনো প্রকার কালা-কানুন বা বেআইনি নিপীড়ন সহ্য করা হবে না। ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪’ বাতিল করা হবে। অতীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং সে সকল হত্যাকাণ্ডের অনুসন্ধান শুরু করে দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে। গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মেধাভিত্তিক একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে নিশ্চিত করা হবে।

প্রশাসনিক সংস্থার কমিশন গঠন ও পিএসসি-কে শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক ও দলীয়করণমুক্ত জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত বিচার প্রাপ্তি এবং বিচার সেবার আধুনিকায়ন করা হবে। বিচারপতি নিয়োগ আইন প্রণয়ন ও জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করা হবে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে, পুলিশকে জনবান্ধব ও সেবাবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। অনলাইন অভিযোগ দায়ের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং পুলিশ কমিশন আইন পুনঃনিরীক্ষণ করা হবে।