বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কর্তৃক ঘোষিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রণীত নতুন নির্বাচনি ইশতেহারকে ‘ঐতিহাসিক’ এবং ‘জাতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনামূলক দলিল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ঢাকা-১২ আসনের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এবং বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। শুক্রবার (তারিখ উল্লেখ করা হয়নি) নিজ নির্বাচনী এলাকার গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্যকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাইফুল হক বলেন, তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত এই ইশতেহার নিছক কোনো নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা। তার মতে, এই ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপি সংবিধানে পুনরায় ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ সংযোজনের অঙ্গীকার করেছে, যা দেশের জনগণের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
ইশতেহারের মূল প্রতিপাদ্য:
“সবার আগে বাংলাদেশ” এবং “করবো কাজ, গড়বো দেশ”— এই দুটি মূল স্লোগানকে সামনে রেখে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি নির্ধারণ করেছে। দলটির ঘোষিত ইশতেহার পাঁচটি প্রধান অধ্যায়ে বিভক্ত:
১. রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার: গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, এবং প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও দুর্নীতিমুক্ত শাসন প্রতিষ্ঠা।
২. বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন: কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সমতা বিধান, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ।
৩. ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাত সংস্কার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদান, এবং বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বৃদ্ধি।
৪. অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন: গ্রাম ও শহরের উন্নয়ন বৈষম্য হ্রাস, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, এবং পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ।
৫. ধর্ম, সমাজ ও ক্রীড়া উন্নয়ন: ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, সাংস্কৃতিক বিকাশ, তরুণ সমাজকে ক্রীড়ামুখী করা, এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ জোরদার করা।
সাইফুল হকের বক্তব্য:
সাইফুল হক জোর দিয়ে বলেন যে, এই ইশতেহার বাস্তবায়িত হলে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে, মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, দুর্নীতি কমবে এবং তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। তিনি বলেন, “আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে এই পরিবর্তনের সংগ্রামে এগিয়ে যেতে চাই।”
তিনি ঢাকা-১২ আসনের ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে হবে। উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপির পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
সভা শেষে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ইশতেহারের সমর্থনে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























