ঢাকা ১১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামি সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার: খেলাফত মজলিসের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত এবং মানবিক ইসলামি সুশাসনের আদলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ইশতেহার তুলে ধরেন সংগঠনের আমির আল্লামা মামুনুল হক। ঘোষিত ইশতেহারে ছয়টি প্রধান বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে মোট ২২টি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে।

ইশতেহারের মূল দর্শন ব্যাখ্যা করে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশ কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং এটি ঈমান ও ন্যায়বিচারের লড়াইয়ের এক ঐতিহাসিক জনপদ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আল্লাহভীতি ও সুশাসন ছাড়া রাষ্ট্রে প্রকৃত শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। দুর্নীতি, মাদক এবং চাঁদাবাজির মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিশ্বাসী নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ জবাবদিহিতার মাধ্যমে ইনসাফ কায়েম করতে চায়। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিগুলোর প্রতি সংহতি জানিয়ে ২০২৬ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দলটি।

ইশতেহারে অগ্রাধিকারমূলক ছয়টি কর্মসূচি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রথমত, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ন্যায়বিচার—এই ছয়টি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দায় রাষ্ট্রকে গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মানসম্মত জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

তৃতীয়ত, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি আধুনিক ও পেশাদার প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিকাশের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। চতুর্থত, জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আত্মমর্যাদাশীল ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে মুসলিম বিশ্বসহ সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। পঞ্চমত, বর্তমান বিভক্ত শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তে একটি নৈতিকতা-নির্ভর সার্বজনীন জাতীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়ন এবং কওমি মাদ্রাসার মানোন্নয়নে স্বাধীন শিক্ষা কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। ষষ্ঠত, তরুণদের বেকারত্ব দূর করতে ‘এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি’ বা কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়ার কর্মসূচি পালনের অঙ্গীকার করেছে দলটি।

ইশতেহারের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে—কাদিয়ানী বা আহমদিয়া সম্প্রদায় এবং আজমতে সাহাবা সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নীতি, কৃষি ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা, এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ। এছাড়া গুম, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে কঠোর আইনি কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সমাপনী বক্তব্যে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, এই ইশতেহার বাস্তবায়ন তাদের কাছে কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি ঈমানি দায়িত্ব। ধর্ম-বর্ণ ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের জান-মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে দলের নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, যুগ্ম মহাসচিব আবু সাঈদ নোমান, এনামুল হক মুসা এবং কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হাসান জুনায়েদসহ সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাস ও লঞ্চে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

ইসলামি সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার: খেলাফত মজলিসের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ

আপডেট সময় : ০১:২৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত এবং মানবিক ইসলামি সুশাসনের আদলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ইশতেহার তুলে ধরেন সংগঠনের আমির আল্লামা মামুনুল হক। ঘোষিত ইশতেহারে ছয়টি প্রধান বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে মোট ২২টি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে।

ইশতেহারের মূল দর্শন ব্যাখ্যা করে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশ কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং এটি ঈমান ও ন্যায়বিচারের লড়াইয়ের এক ঐতিহাসিক জনপদ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আল্লাহভীতি ও সুশাসন ছাড়া রাষ্ট্রে প্রকৃত শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। দুর্নীতি, মাদক এবং চাঁদাবাজির মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিশ্বাসী নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ জবাবদিহিতার মাধ্যমে ইনসাফ কায়েম করতে চায়। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিগুলোর প্রতি সংহতি জানিয়ে ২০২৬ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দলটি।

ইশতেহারে অগ্রাধিকারমূলক ছয়টি কর্মসূচি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রথমত, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ন্যায়বিচার—এই ছয়টি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দায় রাষ্ট্রকে গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মানসম্মত জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

তৃতীয়ত, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি আধুনিক ও পেশাদার প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিকাশের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। চতুর্থত, জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আত্মমর্যাদাশীল ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে মুসলিম বিশ্বসহ সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। পঞ্চমত, বর্তমান বিভক্ত শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তে একটি নৈতিকতা-নির্ভর সার্বজনীন জাতীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়ন এবং কওমি মাদ্রাসার মানোন্নয়নে স্বাধীন শিক্ষা কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। ষষ্ঠত, তরুণদের বেকারত্ব দূর করতে ‘এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি’ বা কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়ার কর্মসূচি পালনের অঙ্গীকার করেছে দলটি।

ইশতেহারের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে—কাদিয়ানী বা আহমদিয়া সম্প্রদায় এবং আজমতে সাহাবা সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নীতি, কৃষি ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা, এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ। এছাড়া গুম, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে কঠোর আইনি কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সমাপনী বক্তব্যে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, এই ইশতেহার বাস্তবায়ন তাদের কাছে কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি ঈমানি দায়িত্ব। ধর্ম-বর্ণ ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের জান-মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে দলের নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, যুগ্ম মহাসচিব আবু সাঈদ নোমান, এনামুল হক মুসা এবং কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হাসান জুনায়েদসহ সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।