ঢাকা ১১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

“মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ”— এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে এক বর্ণাঢ্য স্বাগত র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া এই র‍্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এই র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। নেতাকর্মীরা মাথায় রঙিন ক্যাপ, হাতে সংগঠনের পতাকা ও জাতীয় পতাকা এবং বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। আনন্দঘন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই র‍্যালিটি শাহবাগে পৌঁছালে সেখানে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক শাহ মাহফুজুল হক এবং সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছরে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। শত প্রতিকূলতা ও নির্যাতন মোকাবিলা করে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার সাথে ছাত্রশিবির আজ এক অপরাজেয় কাফেলায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা একটি সমৃদ্ধ, ইনসাফ-ভিত্তিক ও আদর্শিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর।” তিনি সকল ভেদাভেদ ভুলে দেশ গঠনের কাজে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, “গঠনমূলক কাজের মাধ্যমেই ছাত্রশিবির ছাত্রসমাজের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে এবং এই কাফেলাই আগামী দিনে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে, ইনশাআল্লাহ।” একইসাথে সকল প্রকার আধিপত্যবাদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবিরের আপসহীন সংগ্রাম অতীতের ন্যায় আগামীতেও জারি রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আগামী নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে একটি ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তারা ঐতিহাসিক শাহবাগের স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই শাহবাগ থেকেই ছাত্রশিবিরের প্রথম কেন্দ্রীয় সভাপতি মীর কাসেম আলী ও দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় সভাপতি কামারুজ্জামানকে তৎকালীন সরকার অন্যায়ভাবে বিচার করে শহীদ করেছিল। সময়ের পরিক্রমায় সেই শক্তিকে পরাজিত করে ছাত্রশিবির আজ সেই একই শাহবাগে সগৌরবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। সত্যের এই পুনরুত্থান প্রমাণ করে যে, জুলুম করে আদর্শকে স্তব্ধ করা যায় না; বরং শাহাদাতের রক্তে রঞ্জিত হয়েই এই কাফেলা আজ আরও বেশি শক্তিশালী ও সংহত। তারা শহীদদের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করেন। সমাবেশে শহীদ আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ এবং ওসমান হাদীর আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তাদের হত্যার যথাযথ বিচার দাবি করা হয়।

সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ আহসান, গণতান্ত্রিক ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান মাহবুব, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মানবসম্পদ ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম এবং ফাউন্ডেশন সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভূইয়া সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক হাফেজ ডা. রেজওয়ানুল হক, শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সেক্রেটারি ও জাকসু জিএস মাজহারুরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পূর্ব সভাপতি ও ডাকসু পরিবহণ সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হেলাল উদ্দিন এবং ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় অফিস ও পাঠাগার সম্পাদক নূর মুহাম্মদ সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ছাত্রসমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে এবং র‍্যালি সফল করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাবেশ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাস ও লঞ্চে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ

আপডেট সময় : ০১:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

“মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ”— এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে এক বর্ণাঢ্য স্বাগত র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া এই র‍্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এই র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। নেতাকর্মীরা মাথায় রঙিন ক্যাপ, হাতে সংগঠনের পতাকা ও জাতীয় পতাকা এবং বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। আনন্দঘন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই র‍্যালিটি শাহবাগে পৌঁছালে সেখানে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক শাহ মাহফুজুল হক এবং সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছরে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। শত প্রতিকূলতা ও নির্যাতন মোকাবিলা করে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার সাথে ছাত্রশিবির আজ এক অপরাজেয় কাফেলায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা একটি সমৃদ্ধ, ইনসাফ-ভিত্তিক ও আদর্শিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর।” তিনি সকল ভেদাভেদ ভুলে দেশ গঠনের কাজে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, “গঠনমূলক কাজের মাধ্যমেই ছাত্রশিবির ছাত্রসমাজের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে এবং এই কাফেলাই আগামী দিনে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে, ইনশাআল্লাহ।” একইসাথে সকল প্রকার আধিপত্যবাদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবিরের আপসহীন সংগ্রাম অতীতের ন্যায় আগামীতেও জারি রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আগামী নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে একটি ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তারা ঐতিহাসিক শাহবাগের স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই শাহবাগ থেকেই ছাত্রশিবিরের প্রথম কেন্দ্রীয় সভাপতি মীর কাসেম আলী ও দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় সভাপতি কামারুজ্জামানকে তৎকালীন সরকার অন্যায়ভাবে বিচার করে শহীদ করেছিল। সময়ের পরিক্রমায় সেই শক্তিকে পরাজিত করে ছাত্রশিবির আজ সেই একই শাহবাগে সগৌরবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। সত্যের এই পুনরুত্থান প্রমাণ করে যে, জুলুম করে আদর্শকে স্তব্ধ করা যায় না; বরং শাহাদাতের রক্তে রঞ্জিত হয়েই এই কাফেলা আজ আরও বেশি শক্তিশালী ও সংহত। তারা শহীদদের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করেন। সমাবেশে শহীদ আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ এবং ওসমান হাদীর আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তাদের হত্যার যথাযথ বিচার দাবি করা হয়।

সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ আহসান, গণতান্ত্রিক ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান মাহবুব, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মানবসম্পদ ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম এবং ফাউন্ডেশন সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভূইয়া সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক হাফেজ ডা. রেজওয়ানুল হক, শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সেক্রেটারি ও জাকসু জিএস মাজহারুরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পূর্ব সভাপতি ও ডাকসু পরিবহণ সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হেলাল উদ্দিন এবং ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় অফিস ও পাঠাগার সম্পাদক নূর মুহাম্মদ সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ছাত্রসমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে এবং র‍্যালি সফল করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাবেশ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।