বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই জাদুঘরে জায়গা পেয়েছে প্রায় এক লাখ প্রাচীন নিদর্শন। এই নিদর্শনগুলো মিশরের প্রাক-রাজবংশীয় সময় থেকে শুরু করে গ্রিক ও রোমান আমল পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় সাত হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাস তুলে ধরছে।
এই জাদুঘরের উদ্বোধনকে ঘিরে পুরো দেশেই উৎসবের আমেজ চলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্বোধনের ফলে বিদেশে থাকা মিশরের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলো ফেরত আনার দাবি আরও জোরালো হবে। এর মধ্যে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে থাকা বিখ্যাত ‘রোসেটা স্টোন’ অন্যতম।
গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামের (জিইএম) সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি হলো বালক রাজা তুতেনখামেনের সমাধি থেকে উদ্ধার করা সম্পূর্ণ সংগ্রহ, যা এই প্রথমবার একসঙ্গে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এই সংগ্রহের মধ্যে তার সোনার মুখোশ, সিংহাসন, রথসহ ৫ হাজার ৫০০টিরও বেশি জিনিস রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ‘ইজিপ্টোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি এবং জিইএম-এর সাবেক প্রধান ড. তারেক তাওফিক এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা তুতেনখামেনকে ঠিক এমনভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছি, যাতে কোনো কিছুই বাদ না পড়ে বা অন্য কোনো জাদুঘরে না যায়। আমরা চেয়েছি, দর্শকরা যেন ঠিক শত বছর আগে হাওয়ার্ড কার্টারের পাওয়া সেই অভিজ্ঞতাটাই পান।”
প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার খরচ করে তৈরি করা এই জাদুঘরটি বছরে ৮০ লাখ দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি সংকটের পর মিশরের পর্যটন খাতে বড় ধরনের গতি আনবে।
তুতেনখামেনের এই প্রদর্শনীর পাশাপাশি দর্শকরা এখানে ৪ হাজার ৫০০ বছরের পুরোনো ফারাও খুফুর মৃতদেহ বহনকারী নৌকাটিও দেখতে পাবেন, যা প্রাচীন বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো সংরক্ষিত জাহাজগুলোর মধ্যে অন্যতম।
এই জাদুঘরটি ৫ লাখ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এর বাইরের অংশে হায়ারোগ্লিফিক খোদাই এবং অ্যালাবাস্টার পাথরের ত্রিভুজাকার নকশা করা হয়েছে, আর এর প্রবেশদ্বারটি তৈরি করা হয়েছে পিরামিডের আকৃতিতে।
মিশরের সাবেক পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্বমন্ত্রী ড. জাহি হাওয়াস বলেন, “এটা আমার স্বপ্ন ছিল। এই জাদুঘর মিশরীয়দের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। আমরা যে এখন শুধু খনন বা সংরক্ষণেই দক্ষ নই, বরং আমরা যে নিজেদের ঐতিহ্যের কিউরেটর (রক্ষক) হতে পারি, এটাও প্রমাণ হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি চাই তিনটি জিনিস ফেরত আসুক: রোসেটা স্টোন, লুভর জোডিয়াক (প্রাচীন মিশরীয় খোদাই করা পাথর) এবং বার্লিনে থাকা নেফারতিতির আবক্ষ মূর্তি।”
এই জাদুঘরটি শুধু দেখার জায়গাই নয়, এটি গবেষণা ও সংরক্ষণের একটি আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে। এখানকার মিশরীয় বিশেষজ্ঞরাই তুতেনখামেনের বর্ম ও অন্যান্য নিদর্শনগুলো পুনরুদ্ধারের কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
জিইএম-এর সাবেক প্রধান তাওফিক বলেন, “প্রাচীন মিশরের ইতিহাসের পাশাপাশি আমরা আধুনিক মিশরকেও তুলে ধরছি, কারণ এই পুরো জাদুঘরটি মিশর নিজেই তৈরি করেছে।”
রিপোর্টারের নাম 





















