ঢাকা ১১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

স্নাতকোত্তর পর্যন্ত ছাত্রীদের বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষা, মেধাবীদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা: জামায়াত আমিরের প্রতিশ্রুতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের সকল মেধাবী শিক্ষার্থীর মেধার বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রীরা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, পিছিয়ে পড়া এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নওগাঁর এ.টিম মাঠে আয়োজিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “যে মায়ের সামর্থ্য নেই, সেই শিশুর দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। যার নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তারও যদি মেধাবী ছেলে থাকে; তার মেধাকে বিকশিত করা হবে, যাতে সে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। সে বুঝবে এদেশের মানুষ কত কষ্টে জীবন যাপন করে।”

জামায়াত আমির বলেন, তারা একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়। তিনি তার পুরনো সহকর্মীদের প্রতি ক্ষমা প্রার্থনা করেন যারা তার বিরুদ্ধে ‘মিিসাইল নিক্ষেপ’ করেছেন। তিনি বলেন, “আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম। আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের অপচর্চার ক্ষমা করে দেন। কোনো অপচর্চার জবাব আমি দেইনি এবং দেবো না।”

নওগাঁর উন্নয়নের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নওগাঁ বাংলাদেশের খাদ্য ও ফল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও জেলাটি তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি শহরের রাস্তা চার লেনে উন্নীত করার এবং একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “যদি আল্লাহ আমাদের সুযোগ দেন, আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা, সমর্থন ও ভোটে যদি নির্বাচিত হতে পারি- ইনশাআল্লাহ এটি হবে।”

কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলকে কৃষি শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে যেখানে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে এবং পেশাগতভাবে শিক্ষা লাভ করবে। তিনি আরও বলেন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের অভাবের কারণে কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পান না। নির্বাচিত হলে তিনি ফসল সংরক্ষণের জন্য গুদাম নির্মাণ এবং আম ও লিচু প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা করবেন।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি কুসুম্বা মসজিদ, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার এবং দুবলাহাটি রাজবাড়ীকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পর্যটন বর্তমান বিশ্বে আয়ের একটি বড় উৎস হলেও বাংলাদেশে এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

ডা. শফিকুর রহমান ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তারা জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধি না করে নিজেদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, তারা জনগণের টাকা লুট, চুরি এবং ব্যাংক ডাকাতি করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে এবং ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, এই টাকা জনগণের কাছে ফিরিয়ে এনে দেশের অবহেলিত অঞ্চলগুলোর উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা বেইনসাফি করতে পারবো না। কোনটা প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি আর রাষ্ট্রপতির আমরা ওটা দেখতে পারবো না। কোন জায়গার মানুষ দুঃখ কষ্টে আছে সেখান থেকে আগে উন্নয়ন শুরু হবে।”

তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, তরুণরা কাজ দাবি করেছিল, বেকার ভাতা নয়। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা হবে।

জুলাই আন্দোলনে তরুণ ও নারীদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “জুলাইয়ে মা বোনদের বিশেষ অবদান ছিলো। যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের গায়ে হাত দিয়েছিল। সাথে সাথে সারাদেশ স্ফুলিঙ্গের ন্যায় ফেটে পড়েছিল।” তিনি বলেন, মায়ের জাতিকে সম্মান করলে আল্লাহও জাতিকে সম্মানিত করবেন। তিনি কিছু ব্যক্তির মায়ের প্রতি অসম্মানজনক আচরণের তীব্র নিন্দা জানান এবং সতর্ক করেন যে, তরুণরা মায়ের অপমান সহ্য করবে না।

দেশের সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের সহাবস্থানের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “এদেশে শুধু আমরা শুধু মুসলমানরা নয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টানরা একসাথে বসবাস করছি। আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নাই কোনো মেজরিটি-মাইনরিটি মানবো না।” তিনি সকল নাগরিককে নিয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, এই ভোট হবে মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য। তিনি ব্যাংক ডাকাতি এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আপসহীন থাকার অঙ্গীকার করেন। সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা ভয়ের মধ্যে থাকবে না এবং সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই ভোট হবে ‘ইনসাফের প্রতীকে’। তিনি নওগাঁর সকল আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাস ও লঞ্চে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

স্নাতকোত্তর পর্যন্ত ছাত্রীদের বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষা, মেধাবীদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা: জামায়াত আমিরের প্রতিশ্রুতি

আপডেট সময় : ০৬:১৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের সকল মেধাবী শিক্ষার্থীর মেধার বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রীরা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, পিছিয়ে পড়া এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নওগাঁর এ.টিম মাঠে আয়োজিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “যে মায়ের সামর্থ্য নেই, সেই শিশুর দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। যার নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তারও যদি মেধাবী ছেলে থাকে; তার মেধাকে বিকশিত করা হবে, যাতে সে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। সে বুঝবে এদেশের মানুষ কত কষ্টে জীবন যাপন করে।”

জামায়াত আমির বলেন, তারা একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়। তিনি তার পুরনো সহকর্মীদের প্রতি ক্ষমা প্রার্থনা করেন যারা তার বিরুদ্ধে ‘মিিসাইল নিক্ষেপ’ করেছেন। তিনি বলেন, “আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম। আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের অপচর্চার ক্ষমা করে দেন। কোনো অপচর্চার জবাব আমি দেইনি এবং দেবো না।”

নওগাঁর উন্নয়নের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নওগাঁ বাংলাদেশের খাদ্য ও ফল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও জেলাটি তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি শহরের রাস্তা চার লেনে উন্নীত করার এবং একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “যদি আল্লাহ আমাদের সুযোগ দেন, আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা, সমর্থন ও ভোটে যদি নির্বাচিত হতে পারি- ইনশাআল্লাহ এটি হবে।”

কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলকে কৃষি শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে যেখানে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে এবং পেশাগতভাবে শিক্ষা লাভ করবে। তিনি আরও বলেন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের অভাবের কারণে কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পান না। নির্বাচিত হলে তিনি ফসল সংরক্ষণের জন্য গুদাম নির্মাণ এবং আম ও লিচু প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা করবেন।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি কুসুম্বা মসজিদ, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার এবং দুবলাহাটি রাজবাড়ীকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পর্যটন বর্তমান বিশ্বে আয়ের একটি বড় উৎস হলেও বাংলাদেশে এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

ডা. শফিকুর রহমান ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তারা জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধি না করে নিজেদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, তারা জনগণের টাকা লুট, চুরি এবং ব্যাংক ডাকাতি করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে এবং ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, এই টাকা জনগণের কাছে ফিরিয়ে এনে দেশের অবহেলিত অঞ্চলগুলোর উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা বেইনসাফি করতে পারবো না। কোনটা প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি আর রাষ্ট্রপতির আমরা ওটা দেখতে পারবো না। কোন জায়গার মানুষ দুঃখ কষ্টে আছে সেখান থেকে আগে উন্নয়ন শুরু হবে।”

তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, তরুণরা কাজ দাবি করেছিল, বেকার ভাতা নয়। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা হবে।

জুলাই আন্দোলনে তরুণ ও নারীদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “জুলাইয়ে মা বোনদের বিশেষ অবদান ছিলো। যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের গায়ে হাত দিয়েছিল। সাথে সাথে সারাদেশ স্ফুলিঙ্গের ন্যায় ফেটে পড়েছিল।” তিনি বলেন, মায়ের জাতিকে সম্মান করলে আল্লাহও জাতিকে সম্মানিত করবেন। তিনি কিছু ব্যক্তির মায়ের প্রতি অসম্মানজনক আচরণের তীব্র নিন্দা জানান এবং সতর্ক করেন যে, তরুণরা মায়ের অপমান সহ্য করবে না।

দেশের সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের সহাবস্থানের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “এদেশে শুধু আমরা শুধু মুসলমানরা নয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টানরা একসাথে বসবাস করছি। আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নাই কোনো মেজরিটি-মাইনরিটি মানবো না।” তিনি সকল নাগরিককে নিয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, এই ভোট হবে মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য। তিনি ব্যাংক ডাকাতি এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আপসহীন থাকার অঙ্গীকার করেন। সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা ভয়ের মধ্যে থাকবে না এবং সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই ভোট হবে ‘ইনসাফের প্রতীকে’। তিনি নওগাঁর সকল আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।