আবুধাবিতে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত অবসানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো শুরু হয়েছে। প্রায় চার বছর ধরে চলমান মস্কোর আগ্রাসন বন্ধ করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সর্বশেষ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বুধবার তিন পক্ষের প্রথম দিনের বৈঠক শেষে কিয়েভ এটিকে “গভীর ও ফলপ্রসূ” বলে বর্ণনা করলেও, কোনো বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত মেলেনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত হিসেবে পরিচিত এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ মানুষ নিহত এবং কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বুধবার জানিয়েছেন, যুদ্ধে তার দেশের প্রায় ৫৫ হাজার সেনা নিহত হয়েছে। একই সময়ে রাশিয়ার হামলায় কিয়েভসহ বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ২০ ডিগ্রি নিচে নেমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ তীব্র শীতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
আলোচনায় ইউক্রেনের প্রধান প্রতিনিধি রুস্তেম উমেরভ প্রথম দিনের বৈঠক প্রসঙ্গে বলেছেন, “সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও বাস্তবসম্মত সমাধান” নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ক্রেমলিন তাদের কঠোর অবস্থানে অটল থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
আলোচনার অন্যতম জটিল বিষয় হলো পূর্ব ইউক্রেনের ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ। রাশিয়া চায়, কিয়েভ দোনবাস অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করুক এবং দখলকৃত অঞ্চলগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। অন্যদিকে, কিয়েভ বর্তমান যুদ্ধরেখা বরাবর সংঘাত স্থগিত রাখার পক্ষে এবং সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনায় তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারকে সম্পৃক্ত করেছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জর্জি টিখি জানিয়েছেন, কিয়েভ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী চায় তা জানতে আগ্রহী।
জেলেনস্কি ফরাসি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “পুতিন শুধু ট্রাম্পকেই ভয় পান।” তিনি আরও জানান, ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদার করতে বা ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ বাড়াতে পারেন। তবে কিয়েভ তার সার্বভৌমত্বে কোনো ছাড় দেবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার দখলে রয়েছে, যার মধ্যে লুহানস্ক, খেরসন, জাপোরিঝঝিয়া এবং আরও কিছু অংশ মস্কোর নিয়ন্ত্রণে। দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এখনো কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে। ইউক্রেন সতর্ক করেছে যে, কোনো ভূখণ্ড ছাড়লে মস্কো আরও আগ্রাসী হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতের আগ্রাসন ঠেকাতে অক্ষম এমন কোনো চুক্তিতে তারা স্বাক্ষর করবে না।
রিপোর্টারের নাম 






















