চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়েছে সরকার। এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৯৭ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে, যা সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, এই নয় মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ, লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২৫ শতাংশ কম আদায় হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে মোট ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এই হিসাবে, অর্থবছরের বাকি তিন মাসে ২ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা আদায় করতে হবে, যা প্রতি মাসে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা প্রায় অসম্ভব।
রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে এনবিআর আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস অনুবিভাগে পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংস্থাটি এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের ষষ্ঠ কিস্তির ১৩০ কোটি ডলার ঋণের অর্থ ছাড় করেনি, যার অন্যতম কারণ হিসেবে রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে থাকাকে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘাটতি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
যদিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায় ১১.১৫ শতাংশ বেড়েছে, তবে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস—কোনো অনুবিভাগই তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। কাস্টমস অনুবিভাগ ১ লাখ ৩ হাজার ১৯৬ কোটি টাকার বিপরীতে ৮০ হাজার ২২৩ কোটি টাকা, ভ্যাট ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার বিপরীতে ১ লাখ ৯ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা এবং আয়কর অনুবিভাগ ১ লাখ ৩৯ হাজার ১১৮ কোটি টাকার বিপরীতে ৯৮ হাজার ৫০১ কোটি টাকা আদায় করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























