জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের একটি বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি থেকে অভয় দিয়ে এবং তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে নির্বাচনি মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি একটি নির্বাচনি পথসভায় দেওয়া তার বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়।
গত সোমবার রাতে দেওয়ানগঞ্জের হারুয়াবাড়ী রাহমানি মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় মিল্লাত বলেন, “থানায় বলে দেওয়া আছে, আওয়ামী সমর্থকদের পুলিশ গ্রেপ্তার করবে না এবং কোনো ধরনের হয়রানিও করবে না। আপনারা নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারবেন।” তিনি আরও দাবি করেন, আগামী ২০ বছরেও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে না, তাই তাদের বিএনপির সঙ্গে থেকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপি প্রার্থীর এমন বক্তব্যে সাধারণ ভোটার ও জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সদস্য সচিব সাফায়াত বিন আবেদীন তূর্য এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, এভাবে ভোটের স্বার্থে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করা হলে ছাত্রসমাজ তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না এবং প্রয়োজনে রাজপথে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
এদিকে, মিল্লাতের এই আশ্বাসের পর দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ এলাকায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে বিএনপির পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সাবেক আওয়ামী লীগ কর্মী জানান, মামলা ও হামলা থেকে বাঁচতেই তারা বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাদা জানান, দলের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী যাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, তাদেরই কেবল দলে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয় নেতাদের ছাড়পত্র ছাড়া কাউকে নেওয়া হবে না।
এই বিষয়ে জামালপুর-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নাজমুল হক সাঈদী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিয়ে মিল্লাত সাহেব জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করছেন। এটি সর্বদলীয় অঙ্গীকারের পরিপন্থী।” তিনি স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে দেওয়ানগঞ্জ থানার ওসির প্রত্যাহারের দাবি জানান।
তবে বিএনপি প্রার্থীর এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে নাকচ করে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। দেওয়ানগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার সরকার জানান, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হবে না—এমন কোনো প্রতিশ্রুতি কাউকে দেওয়া হয়নি। পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একই সুরে জামালপুরের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাবেদ সাদেক বলেন, “পুলিশ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। ‘অপারেশন ডেভিলহান্ট’-এর আওতায় জামালপুরেই সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রেপ্তার হয়েছে। কে কী বলল, সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। পুলিশের কাজে কোনো শিথিলতা নেই এবং এর প্রমাণ মাঠ পর্যায়ে পাওয়া যাবে।”
বিতর্কিত এই বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 























