লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিবেশীর বসতঘর সংলগ্ন এলাকায় বাঁশের বেড়া দিয়ে এক মাস ধরে একটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার জেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি, এমনকি তারা নিজেদের পৈতৃক ভিটা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নের উত্তর সমেষপুর গ্রামের অজিত উদ্দিন মিজি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাটখিল থানায় সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত আবদুল কুদ্দুস তার প্রভাব খাটিয়ে একই বাড়ির ভ্যানচালক কামাল হোসেনের বসতঘরের সামনে বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে কামাল হোসেন ও তার পরিবার গত এক মাস ধরে নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এএসআই আবদুল কুদ্দুস গত আগস্ট মাসের ৫ তারিখের পর চাটখিল থানায় যোগদান করেন। এরপর থেকেই তিনি প্রতিবেশীদের সাথে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং প্রায়শই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও মামলা-হামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে তিনি কামাল হোসেনের বসতঘরের সামনে জায়গা দখল করে বেড়া দেন। একই সময়ে তিনি একই বাড়ির সিএনজি চালক নুরু মিয়ার জায়গাও দখল করে বেড়া দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী কামাল হোসেন জানান, তিনি পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে প্রায় ২৫ বছর ধরে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। প্রায় দেড় মাস আগে এএসআই আবদুল কুদ্দুস ও তার ভাই আবুল কালাম মিলে তার বসতঘরের দরজার সামনে জোরপূর্বক বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেন। এ সময় তারা তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিরও ভয় দেখান। তিনি আরও জানান, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালেও তারা আবদুল কুদ্দুসের ভয়ে এই বিষয়ে সমাধানে এগিয়ে আসছেন না। এমতাবস্থায়, তার একটি মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত এবং আরো তিনটি ছেলে-মেয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা বর্তমানে ঢাকায় চলে এসেছেন এবং কামাল হোসেন ভ্যানগাড়িতে কাঁচামাল বিক্রি করে কোনোমতে দিনযাপন করছেন। নিজের বাড়িতে যেতে না পারায় তারা চরম কষ্টের মধ্যে রয়েছেন।
একই বাড়ির সিএনজি চালক নুরু মিয়া বলেন, আবদুল কুদ্দুস তার ভাইসহ তার জায়গাটি কিনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় জোরপূর্বক তার জায়গায় বেড়া দিয়ে দখল করে রাখেন। তিনি কিছু বলতে গেলে, আবদুল কুদ্দুস ও তার ভাই তাদের কোনোকিছু করতে পারবে না বলে মারধর ও মামলা দেওয়ার হুমকি দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এএসআই আবদুল কুদ্দুস এলাকার কাউকে তোয়াক্কা করেন না। পুলিশে চাকরি করার সুবাদে তিনি তুচ্ছ বিষয়েও মানুষকে মামলার ভয় দেখান। এ কারণে তারা তার কোনো বিষয়ে সমাধানে যেতে সাহস পান না।
এ বিষয়ে এএসআই আবদুল কুদ্দুসের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি নই।” এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।
রামগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাদ্দ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, এ ব্যাপারে তিনি অবগত নন। যেহেতু থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি, তাই অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 























