ঢাকা ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পঞ্চগড়ে কালের সাক্ষী মির্জাপুর শাহি মসজিদ: মোগল স্থাপত্যের এক অনুপম নিদর্শন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়, যা হিমালয়ের নৈকট্য এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার মনমুগ্ধকর দৃশ্যের জন্য পরিচিত। কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, এই জেলা তার বুকে ধারণ করে আছে বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন, যা অতীতের গৌরবময় অধ্যায়ের সাক্ষ্য বহন করে। এই জেলার এমনই এক অমূল্য সম্পদ হলো মির্জাপুর শাহি মসজিদ। প্রায় চার শতাব্দী প্রাচীন এই মসজিদটি কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর এক অসামান্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।

মির্জাপুর শাহি মসজিদের নির্মাণকাল নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রচলিত আছে। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় প্রাপ্ত শিলালিপির ভিত্তিতে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, মসজিদটি ১৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়েছিল। তবে এর নির্মাণকর্তা কে ছিলেন, তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়। জনশ্রুতি অনুযায়ী, মালিক উদ্দিন নামক এক ব্যক্তি এই মসজিদটি নির্মাণ করেন এবং তিনিই মির্জাপুর গ্রামটিও প্রতিষ্ঠা করেন। আবার কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন, দোস্ত মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি মসজিদটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছিলেন।

মসজিদের প্রধান দরজার উপরে ফারসি ভাষায় খোদাই করা একটি শিলালিপি থেকে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা ধারণা করেন যে, মোগল সম্রাট শাহ সুজার শাসনামলে এই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল।

স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে মসজিদটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ ফুট এবং প্রস্থ ২৫ ফুট। মসজিদের কেন্দ্রে অবস্থিত তিনটি গম্বুজ মোগল স্থাপত্যের এক চমৎকার উদাহরণ। গম্বুজগুলোর শীর্ষদেশ ক্রমশ সরু হয়ে আসা বেল্ট নকশায় সজ্জিত। মসজিদের চার কোণে চারটি সুসজ্জিত, নকশা করা মিনার দাঁড়িয়ে আছে, যা এর সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এছাড়াও, সম্মুখভাগের দেওয়ালে, প্রবেশদ্বারের দু’পাশে, গম্বুজগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে আরও দুটি ছোট মিনার নির্মিত হয়েছে। এই মিনারগুলোর দেয়াল সংলগ্ন অংশ বর্গাকার। একই ধরনের দুটি ক্ষুদ্রাকৃতির মিনার মসজিদের পশ্চিম দেওয়ালেও লক্ষ্য করা যায়। এই সমস্ত স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য মির্জাপুর শাহি মসজিদকে এক বিশেষ ঐতিহাসিক ও নান্দনিক গুরুত্ব প্রদান করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে দেশজুড়ে এনসিপির বিক্ষোভ, তারেক রহমানকে কড়া বার্তা

পঞ্চগড়ে কালের সাক্ষী মির্জাপুর শাহি মসজিদ: মোগল স্থাপত্যের এক অনুপম নিদর্শন

আপডেট সময় : ১২:০১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়, যা হিমালয়ের নৈকট্য এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার মনমুগ্ধকর দৃশ্যের জন্য পরিচিত। কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, এই জেলা তার বুকে ধারণ করে আছে বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন, যা অতীতের গৌরবময় অধ্যায়ের সাক্ষ্য বহন করে। এই জেলার এমনই এক অমূল্য সম্পদ হলো মির্জাপুর শাহি মসজিদ। প্রায় চার শতাব্দী প্রাচীন এই মসজিদটি কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর এক অসামান্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।

মির্জাপুর শাহি মসজিদের নির্মাণকাল নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রচলিত আছে। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় প্রাপ্ত শিলালিপির ভিত্তিতে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, মসজিদটি ১৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়েছিল। তবে এর নির্মাণকর্তা কে ছিলেন, তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়। জনশ্রুতি অনুযায়ী, মালিক উদ্দিন নামক এক ব্যক্তি এই মসজিদটি নির্মাণ করেন এবং তিনিই মির্জাপুর গ্রামটিও প্রতিষ্ঠা করেন। আবার কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন, দোস্ত মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি মসজিদটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছিলেন।

মসজিদের প্রধান দরজার উপরে ফারসি ভাষায় খোদাই করা একটি শিলালিপি থেকে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা ধারণা করেন যে, মোগল সম্রাট শাহ সুজার শাসনামলে এই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল।

স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে মসজিদটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ ফুট এবং প্রস্থ ২৫ ফুট। মসজিদের কেন্দ্রে অবস্থিত তিনটি গম্বুজ মোগল স্থাপত্যের এক চমৎকার উদাহরণ। গম্বুজগুলোর শীর্ষদেশ ক্রমশ সরু হয়ে আসা বেল্ট নকশায় সজ্জিত। মসজিদের চার কোণে চারটি সুসজ্জিত, নকশা করা মিনার দাঁড়িয়ে আছে, যা এর সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এছাড়াও, সম্মুখভাগের দেওয়ালে, প্রবেশদ্বারের দু’পাশে, গম্বুজগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে আরও দুটি ছোট মিনার নির্মিত হয়েছে। এই মিনারগুলোর দেয়াল সংলগ্ন অংশ বর্গাকার। একই ধরনের দুটি ক্ষুদ্রাকৃতির মিনার মসজিদের পশ্চিম দেওয়ালেও লক্ষ্য করা যায়। এই সমস্ত স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য মির্জাপুর শাহি মসজিদকে এক বিশেষ ঐতিহাসিক ও নান্দনিক গুরুত্ব প্রদান করেছে।