ঢাকা ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পাবনা-৪: বিদ্রোহী কাঁটায় বিদ্ধ ধানের শীষ, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিপাকে হাবিব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ জটিল হয়ে উঠছে। দলীয় কোন্দল ও প্রভাবশালী নেতার ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ার ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী এবং পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত এই বিরোধ এখন প্রকাশ্য রূপ নেওয়ায় আসনটিতে বিএনপির নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

স্থানীয় দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সরদারের অনুসারী একটি বড় অংশ এখনো নির্বাচনি মাঠে নিষ্ক্রিয়। উল্টো এই শিবিরের প্রচ্ছন্ন সমর্থনে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে নেমেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই নেতার বিদ্রোহী অবস্থান সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও শঙ্কা তৈরি করেছে।

বিএনপির এই ঘরোয়া সংকটের ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর শিবিরে। পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্মী সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে তার সরব উপস্থিতি এবং দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের সক্রিয়তা নির্বাচনি মাঠে তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দেড় যুগ ধরে ঈশ্বরদীতে বিএনপির কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। সাংগঠনিক এই দুর্বলতা নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামায় সমন্বয়হীনতা প্রকট হয়ে উঠেছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে জাকারিয়া পিন্টু তৃণমূলের একটি অংশের সমর্থন নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। যদিও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে পিন্টুকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তবুও তার প্রভাব বলয় থেকে বের হতে পারছেন না অনেক নেতাকর্মী।

নির্বাচনি মাঠের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বহিষ্কারের পর কিছু নেতা ধানের শীষের পক্ষে ফেরার ঘোষণা দিলেও সিরাজুল ইসলাম সরদারের অনুসারী একটি বিশাল অংশ এখনো নির্বাচনি প্রচার থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন। ফলে একদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে প্রভাবশালী অংশের নীরবতা—সব মিলিয়ে পাবনা-৪ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা হাবিবুর রহমান হাবিবের জন্য এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। শেষ মুহূর্তে এই কোন্দল নিরসন করা না গেলে এর প্রভাব ভোটের ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে দেশজুড়ে এনসিপির বিক্ষোভ, তারেক রহমানকে কড়া বার্তা

পাবনা-৪: বিদ্রোহী কাঁটায় বিদ্ধ ধানের শীষ, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিপাকে হাবিব

আপডেট সময় : ১১:৩৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ জটিল হয়ে উঠছে। দলীয় কোন্দল ও প্রভাবশালী নেতার ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ার ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী এবং পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত এই বিরোধ এখন প্রকাশ্য রূপ নেওয়ায় আসনটিতে বিএনপির নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

স্থানীয় দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সরদারের অনুসারী একটি বড় অংশ এখনো নির্বাচনি মাঠে নিষ্ক্রিয়। উল্টো এই শিবিরের প্রচ্ছন্ন সমর্থনে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে নেমেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই নেতার বিদ্রোহী অবস্থান সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও শঙ্কা তৈরি করেছে।

বিএনপির এই ঘরোয়া সংকটের ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর শিবিরে। পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্মী সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে তার সরব উপস্থিতি এবং দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের সক্রিয়তা নির্বাচনি মাঠে তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দেড় যুগ ধরে ঈশ্বরদীতে বিএনপির কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। সাংগঠনিক এই দুর্বলতা নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামায় সমন্বয়হীনতা প্রকট হয়ে উঠেছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে জাকারিয়া পিন্টু তৃণমূলের একটি অংশের সমর্থন নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। যদিও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে পিন্টুকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তবুও তার প্রভাব বলয় থেকে বের হতে পারছেন না অনেক নেতাকর্মী।

নির্বাচনি মাঠের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বহিষ্কারের পর কিছু নেতা ধানের শীষের পক্ষে ফেরার ঘোষণা দিলেও সিরাজুল ইসলাম সরদারের অনুসারী একটি বিশাল অংশ এখনো নির্বাচনি প্রচার থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন। ফলে একদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে প্রভাবশালী অংশের নীরবতা—সব মিলিয়ে পাবনা-৪ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা হাবিবুর রহমান হাবিবের জন্য এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। শেষ মুহূর্তে এই কোন্দল নিরসন করা না গেলে এর প্রভাব ভোটের ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।