ঢাকা ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে জিজ্ঞাসাবাদে মার্কিন কংগ্রেসের জোরালো আহ্বান

মার্কিন যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট তদন্তের কাজে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরকে (প্রিন্স অ্যান্ড্রু) জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য কংগ্রেস কমিটি আবারও জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের হাউজ ওভারসাইট কমিটির কমপক্ষে চারজন ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যান্ড্রুর সাক্ষ্য গ্রহণের দাবি তুলেছেন। তবে কমিটিতে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তারা এই দাবির প্রতি সমর্থন জানাবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এপস্টেইনের সাথে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের কারণে গত বৃহস্পতিবার রাজা চার্লস তার ভাই অ্যান্ড্রুর ‘প্রিন্স’ উপাধি প্রত্যাহার করে নেন। তবে সাবেক এই প্রিন্স তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কেন সাক্ষ্য চাওয়া হচ্ছে?
কংগ্রেসম্যান সুহাস সুব্রামনিয়াম বিবিসিকে বলেছেন:

“যদি তিনি নিজের নামের কলঙ্ক মোচন করতে চান এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি ন্যায্য আচরণ করতে চান, তাহলে তিনি অবশ্যই এগিয়ে আসবেন।”

তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বহুবার অ্যান্ড্রুর নাম উঠে এসেছে। তাই কী ঘটেছিল সে বিষয়ে তিনি নিঃসন্দেহে অবগত। সুব্রামনিয়াম চান, অ্যান্ড্রু এসে শুধু সেই তথ্যগুলো জানান। তিনি উল্লেখ করেন, অ্যান্ড্রু চাইলে সশরীরে না এসেও সাক্ষ্য দিতে পারেন, আইনজীবী সঙ্গে রাখতে পারেন এবং প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে কমিটির সাথে কথা বলতে পারেন।

কমিটির আরেক সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি বলেছেন, প্রয়োজনে তিনি অ্যান্ড্রুর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সমন জারি করতেও রাজি আছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকায় সেই সমন কার্যকর করা কঠিন হতে পারে। তিনি বলেন, “শেষ পর্যন্ত আমরা জানতে চাই আসলে কী ঘটেছিল। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধেও এটা অত্যন্ত জরুরি।”

অন্য সদস্য স্টিফেন লিঞ্চ বিবিসিকে বলেন, অ্যান্ড্রুর সাক্ষ্য ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পেতে সহায়ক হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে সমন করা সম্ভব নয়।

ভুক্তভোগী ও ব্রিটিশ মন্ত্রীর আহ্বান
এপস্টেইনের একজন ভুক্তভোগী লিজ স্টেইন বিবিসিকে বলেছেন, অ্যান্ড্রুর উচিত নিজ উদ্যোগে তদন্তে সহযোগিতা করা। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি লুকানোর কিছু না থাকে, তাহলে তিনি কেন এড়িয়ে যাচ্ছেন?” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা জানি, এপস্টেইনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। তাই তিনি নিশ্চয়ই কিছু বিষয় দেখেছেন।”

ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী ক্রিস ব্রায়ান্টও মন্তব্য করেছেন, অ্যান্ড্রুর উচিত যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রশ্নের জবাব দেওয়া।

পুরনো যোগাযোগ এবং রাজপরিবারের অবস্থান
সম্প্রতি প্রকাশিত আদালতের নথি থেকে জানা যায় যে, ২০১০ সালে এপস্টেইন কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর অ্যান্ড্রু তাকে ইমেইলে লিখেছিলেন, ‘সরাসরি দেখা করে কথা বললে ভালো হয়।’ একই বছরের ডিসেম্বরে নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে তাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। অ্যান্ড্রু অবশ্য দাবি করেন, সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্যই ওই সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়েছিল।

রাজপরিবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অ্যান্ড্রু অভিযোগ অস্বীকার করলেও তার আচরণে গুরুতর বিচারের ঘাটতি ছিল।

গত কয়েক সপ্তাহে এই ইস্যুটি নিয়ে রাজ পরিবারের ওপর চাপ বাড়ছিল। অক্টোবরের শুরুতে প্রকাশিত ২০১১ সালের কিছু ইমেইল দেখা যায়, অ্যান্ড্রু তখনও এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, যদিও তিনি দাবি করেছিলেন যে ততদিনে সম্পর্ক শেষ করেছেন।

এছাড়াও, ভার্জিনিয়া জিউফ্রের মৃত্যুর পর প্রকাশিত স্মৃতিকথায় আবারও অভিযোগ করা হয় যে, কিশোরী বয়সে তাকে তিনবার অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌনসম্পর্কে বাধ্য করা হয়েছিল—যা অ্যান্ড্রু বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান রাজধানীতে পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগ, সীমান্তে চরম উত্তেজনা

প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে জিজ্ঞাসাবাদে মার্কিন কংগ্রেসের জোরালো আহ্বান

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

মার্কিন যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট তদন্তের কাজে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরকে (প্রিন্স অ্যান্ড্রু) জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য কংগ্রেস কমিটি আবারও জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের হাউজ ওভারসাইট কমিটির কমপক্ষে চারজন ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যান্ড্রুর সাক্ষ্য গ্রহণের দাবি তুলেছেন। তবে কমিটিতে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তারা এই দাবির প্রতি সমর্থন জানাবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এপস্টেইনের সাথে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের কারণে গত বৃহস্পতিবার রাজা চার্লস তার ভাই অ্যান্ড্রুর ‘প্রিন্স’ উপাধি প্রত্যাহার করে নেন। তবে সাবেক এই প্রিন্স তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কেন সাক্ষ্য চাওয়া হচ্ছে?
কংগ্রেসম্যান সুহাস সুব্রামনিয়াম বিবিসিকে বলেছেন:

“যদি তিনি নিজের নামের কলঙ্ক মোচন করতে চান এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি ন্যায্য আচরণ করতে চান, তাহলে তিনি অবশ্যই এগিয়ে আসবেন।”

তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বহুবার অ্যান্ড্রুর নাম উঠে এসেছে। তাই কী ঘটেছিল সে বিষয়ে তিনি নিঃসন্দেহে অবগত। সুব্রামনিয়াম চান, অ্যান্ড্রু এসে শুধু সেই তথ্যগুলো জানান। তিনি উল্লেখ করেন, অ্যান্ড্রু চাইলে সশরীরে না এসেও সাক্ষ্য দিতে পারেন, আইনজীবী সঙ্গে রাখতে পারেন এবং প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে কমিটির সাথে কথা বলতে পারেন।

কমিটির আরেক সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি বলেছেন, প্রয়োজনে তিনি অ্যান্ড্রুর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সমন জারি করতেও রাজি আছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকায় সেই সমন কার্যকর করা কঠিন হতে পারে। তিনি বলেন, “শেষ পর্যন্ত আমরা জানতে চাই আসলে কী ঘটেছিল। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধেও এটা অত্যন্ত জরুরি।”

অন্য সদস্য স্টিফেন লিঞ্চ বিবিসিকে বলেন, অ্যান্ড্রুর সাক্ষ্য ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পেতে সহায়ক হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে সমন করা সম্ভব নয়।

ভুক্তভোগী ও ব্রিটিশ মন্ত্রীর আহ্বান
এপস্টেইনের একজন ভুক্তভোগী লিজ স্টেইন বিবিসিকে বলেছেন, অ্যান্ড্রুর উচিত নিজ উদ্যোগে তদন্তে সহযোগিতা করা। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি লুকানোর কিছু না থাকে, তাহলে তিনি কেন এড়িয়ে যাচ্ছেন?” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা জানি, এপস্টেইনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। তাই তিনি নিশ্চয়ই কিছু বিষয় দেখেছেন।”

ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী ক্রিস ব্রায়ান্টও মন্তব্য করেছেন, অ্যান্ড্রুর উচিত যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রশ্নের জবাব দেওয়া।

পুরনো যোগাযোগ এবং রাজপরিবারের অবস্থান
সম্প্রতি প্রকাশিত আদালতের নথি থেকে জানা যায় যে, ২০১০ সালে এপস্টেইন কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর অ্যান্ড্রু তাকে ইমেইলে লিখেছিলেন, ‘সরাসরি দেখা করে কথা বললে ভালো হয়।’ একই বছরের ডিসেম্বরে নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে তাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। অ্যান্ড্রু অবশ্য দাবি করেন, সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্যই ওই সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়েছিল।

রাজপরিবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অ্যান্ড্রু অভিযোগ অস্বীকার করলেও তার আচরণে গুরুতর বিচারের ঘাটতি ছিল।

গত কয়েক সপ্তাহে এই ইস্যুটি নিয়ে রাজ পরিবারের ওপর চাপ বাড়ছিল। অক্টোবরের শুরুতে প্রকাশিত ২০১১ সালের কিছু ইমেইল দেখা যায়, অ্যান্ড্রু তখনও এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, যদিও তিনি দাবি করেছিলেন যে ততদিনে সম্পর্ক শেষ করেছেন।

এছাড়াও, ভার্জিনিয়া জিউফ্রের মৃত্যুর পর প্রকাশিত স্মৃতিকথায় আবারও অভিযোগ করা হয় যে, কিশোরী বয়সে তাকে তিনবার অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌনসম্পর্কে বাধ্য করা হয়েছিল—যা অ্যান্ড্রু বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন।