ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলায় আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছে। উভয় পক্ষই নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার এবং প্রতিপক্ষকে হয়রানির চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে।
উপজেলা বিএনপি তাদের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে, মঙ্গলবার মেদুয়া ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর বহিরাগত কর্মীরা মোটরসাইকেল ও হেলমেট ব্যবহার করে জাতীয় পতাকা লাঠিতে বেঁধে নির্বাচনি প্রচারে নামে। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের বচসা হয় এবং জামায়াত কর্মীরা সাধারণ বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালিয়ে চারজনকে আহত করে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন ভোলা সদর ও দৌলতখান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিএনপি দাবি করেছে, আহতরা জামায়াতের কোনো কর্মী নন, বরং তারা সাধারণ এলাকার বাসিন্দা। বিএনপি আরও অভিযোগ করে, জামায়াত কর্মীরা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছে। তারা আরও জানায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ায় ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে এবং এ ব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, উপজেলা জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে, বিএনপি নেতাকর্মীরা সন্ত্রাসী কায়দায় তাদের শান্তিপূর্ণ গণসংযোগে বাধা প্রদান করেছে এবং হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জামায়াত নেতাদের দাবি, এই হামলা একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ ও জনগণের ভোটাধিকারকে ভয় দেখিয়ে দমন করার সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা। তারা ঘটনার অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে।
এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে দৌলতখানের নির্বাচনী পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেয়, তা দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 























