জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের পটিয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে এক আওয়ামী লীগ নেতার প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ঘটনাটি এখন স্থানীয় রাজনীতিতে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, গত সোমবার পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী এনামুল হক এনামের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন শফিউল আলম বাদশা। তিনি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী। আওয়ামী লীগের পদে থেকেও সরাসরি ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শফিউল আলম বাদশা পটিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দলীয় সমর্থনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ না দিয়েই হঠাৎ করে বিরোধী শিবিরের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামায় খোদ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সাধারণ কর্মীদের মাঝে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খোদ বিএনপির ভেতরেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দলটির অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না। তাদের মতে, সুসময়ে অন্য দলের সুবিধাভোগীরা দলে ভিড়লে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়তে পারেন। একে দলের জন্য ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে অভিহিত করে তারা বলছেন, নতুনদের অতি উৎসাহে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে শফিউল আলম বাদশার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “আমি একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে আমাকে সব মহলের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হয়।” তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে চলা সমালোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
নির্বাচনের আগ মুহূর্তে একজন পদধারী আওয়ামী লীগ নেতার এভাবে সরাসরি ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে পটিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন কোনো মোড় আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 























