বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধারণ করে গড়ে ওঠা নতুন জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা। গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগেই এই বিশেষ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সফররত কূটনীতিকদের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী জাদুঘরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঘুরিয়ে দেখান এবং এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। সফরের শুরুতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এ সময় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিশ্বের অন্যান্য অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই জাদুঘরের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে এবং বিশ্বের অন্য কোথাও যেন এ ধরনের দুঃশাসন ও অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, এই জাদুঘর তৎকালীন শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক প্রতিচ্ছবি। জুলাই জাদুঘরের প্রধান কিউরেটর তানজিম ওয়াহাব আগত কূটনীতিক ও অতিথিদের জাদুঘরের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য এবং সংগ্রহ সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার তার পরিদর্শন অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে বলেন, ‘জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করতে পেরে আমি আনন্দিত। এটি অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক এবং ইতিহাস, গণঅভ্যুত্থান কীভাবে সংঘটিত হয় এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি উপলব্ধির ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী স্মারক হিসেবে কাজ করবে।’
এই অনুষ্ঠানে আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, ভুটান, ডেনমার্ক, মিসর, ফ্রান্স, ইরান, ইরাক, ইতালি, কসোভো, লিবিয়া, মরক্কো, নেপাল, নরওয়ে, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, স্পেন, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান ও ব্রুনাই দারুসসালামের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (AKDN), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB), বিমসটেক, সিআইআরডিএপি, এফএও, আইএফডিসি, আইওএম, ইউনেস্কো, ইউএনএইচসিআর, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) এবং ইউএনওপিএস-এর শীর্ষ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে এসডিজি বিষয়ক জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোর্শেদ, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব মো. মফিদুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে রূপান্তরিত করে এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জানা গেছে, জাদুঘরটি আগামী সপ্তাহে সফট ওপেনিংয়ের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















