ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ বাতিলের সিদ্ধান্ত: আইসিসি-র ৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি, সংকটে বৈশ্বিক ক্রিকেট ইকোসিস্টেম

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন বৈশ্বিক ক্রিকেট আসরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে এক বড় আর্থিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই একটি ম্যাচ থেকেই আইসিসি টুর্নামেন্টের মোট রাজস্বের একটি বিশাল অংশ আয় করে থাকে, যা বৈশ্বিক আসরের আর্থিক চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত। পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তে আইসিসি-র প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা শুধু আইসিসি নয়, বরং বৈশ্বিক ক্রিকেটের সামগ্রিক ইকোসিস্টেমেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ক্রিকেট বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি ম্যাচের বাজারমূল্য অন্তত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন প্রিমিয়াম, স্পনসরশিপ সক্রিয়করণ, টিকিট বিক্রি এবং আইনি বাজি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমগুলো মিলিয়ে এই বিপুল অঙ্কের মূল্য নির্ধারিত হয়। ক্রিকেট বিশ্বে অন্য কোনো একক ম্যাচ এত বিশাল আর্থিক মূল্য বহন করে না। যেখানে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের অভ্যন্তরীণ মূল্য আনুমানিক ১৩৮.৭ কোটি টাকা, সেখানে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সম্প্রচারকদের কাছে এক টাকার খনি হিসেবে বিবেচিত।

এই ম্যাচের বিজ্ঞাপন হার অন্য যেকোনো শীর্ষ দলের বিরুদ্ধে ভারতের নকআউট ম্যাচের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হয়ে থাকে। সাধারণত প্রতি ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের জন্য ২৫-৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এই ম্যাচটি না হলে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন আয় থেকে বঞ্চিত হবে আইসিসি। এটি আসরের সম্প্রচার স্বত্বাধিকারীদের জন্য এক বিশাল আঘাত। আর্থিক ক্ষতির কারণে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সম্প্রচার সংস্থাগুলো আইসিসি-র কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড় চেয়েছে বলে জানা গেছে। ম্যাচ না হওয়া মানে চুক্তি মূল্যের চরম লঙ্ঘন।

এই আর্থিক ধাক্কা কেবল আইসিসি একা হজম করবে না, বরং এর প্রভাব পড়বে পুরো ক্রিকেট ইকোসিস্টেমের ওপর। সম্প্রচারকারীরা তাদের অর্থ ফেরত নেওয়া শুরু করলে, আইসিসি সেই ধাক্কা সামাল দিতে পরবর্তীতে এর দায়ভার অন্যদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে। কেন্দ্রীয় রাজস্ব কমে যাওয়ায় সদস্য বোর্ডগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ হ্রাস পাবে, ফলে সব ক্রিকেট বোর্ডের লাভের অঙ্ক কমবে। বড় বোর্ডগুলো হয়তো এই ধাক্কা সামাল দিতে সক্ষম হবে, কিন্তু আইসিসি-র ওপর নির্ভরশীল সহযোগী দেশগুলো এবং ছোট পূর্ণ সদস্য দেশগুলো ব্যাপক আর্থিক সংকটে পড়বে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচটি অনুষ্ঠিত না হলে ভারত ও পাকিস্তান উভয় বোর্ডই সরাসরি ও পরোক্ষ রাজস্ব বাবদ তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ২০০ কোটি টাকা করে লোকসানের সম্মুখীন হবে। ভারতের জন্য এই ক্ষতি সামাল দেওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ হলেও, পাকিস্তানের জন্য এটি অস্তিত্ব রক্ষার এক বড় চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আইসিসি-র মোট রাজস্বের ৫.৭৫ শতাংশ পায়, যা বছরে প্রায় ৩৪.৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই ক্ষতি কেবল এককালীন নয়। ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি বৈশ্বিক আসর রয়েছে। সম্প্রচারকারীরা যদি এই ধরনের ম্যাচের জন্য নিশ্চয়তা না পায়, তাহলে তারা ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। এর ফলস্বরূপ, পরবর্তী সময়ে সম্প্রচার মূল্য কমে যেতে পারে এবং এই ম্যাচের সঙ্গে যুক্ত স্পনসরশিপের আগ্রহও হ্রাস পেতে পারে। সব মিলিয়ে, একটি মাত্র সিদ্ধান্তের কারণে বছরের পর বছর রাজস্ব হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, যা আইসিসি-র রাজস্ব খাতে বড়সড় ধস নামানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক ক্রিকেট ইকোসিস্টেমেও দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ বাতিলের সিদ্ধান্ত: আইসিসি-র ৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি, সংকটে বৈশ্বিক ক্রিকেট ইকোসিস্টেম

আপডেট সময় : ১০:২৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন বৈশ্বিক ক্রিকেট আসরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে এক বড় আর্থিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই একটি ম্যাচ থেকেই আইসিসি টুর্নামেন্টের মোট রাজস্বের একটি বিশাল অংশ আয় করে থাকে, যা বৈশ্বিক আসরের আর্থিক চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত। পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তে আইসিসি-র প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা শুধু আইসিসি নয়, বরং বৈশ্বিক ক্রিকেটের সামগ্রিক ইকোসিস্টেমেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ক্রিকেট বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি ম্যাচের বাজারমূল্য অন্তত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন প্রিমিয়াম, স্পনসরশিপ সক্রিয়করণ, টিকিট বিক্রি এবং আইনি বাজি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমগুলো মিলিয়ে এই বিপুল অঙ্কের মূল্য নির্ধারিত হয়। ক্রিকেট বিশ্বে অন্য কোনো একক ম্যাচ এত বিশাল আর্থিক মূল্য বহন করে না। যেখানে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের অভ্যন্তরীণ মূল্য আনুমানিক ১৩৮.৭ কোটি টাকা, সেখানে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সম্প্রচারকদের কাছে এক টাকার খনি হিসেবে বিবেচিত।

এই ম্যাচের বিজ্ঞাপন হার অন্য যেকোনো শীর্ষ দলের বিরুদ্ধে ভারতের নকআউট ম্যাচের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হয়ে থাকে। সাধারণত প্রতি ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের জন্য ২৫-৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এই ম্যাচটি না হলে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন আয় থেকে বঞ্চিত হবে আইসিসি। এটি আসরের সম্প্রচার স্বত্বাধিকারীদের জন্য এক বিশাল আঘাত। আর্থিক ক্ষতির কারণে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সম্প্রচার সংস্থাগুলো আইসিসি-র কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড় চেয়েছে বলে জানা গেছে। ম্যাচ না হওয়া মানে চুক্তি মূল্যের চরম লঙ্ঘন।

এই আর্থিক ধাক্কা কেবল আইসিসি একা হজম করবে না, বরং এর প্রভাব পড়বে পুরো ক্রিকেট ইকোসিস্টেমের ওপর। সম্প্রচারকারীরা তাদের অর্থ ফেরত নেওয়া শুরু করলে, আইসিসি সেই ধাক্কা সামাল দিতে পরবর্তীতে এর দায়ভার অন্যদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে। কেন্দ্রীয় রাজস্ব কমে যাওয়ায় সদস্য বোর্ডগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ হ্রাস পাবে, ফলে সব ক্রিকেট বোর্ডের লাভের অঙ্ক কমবে। বড় বোর্ডগুলো হয়তো এই ধাক্কা সামাল দিতে সক্ষম হবে, কিন্তু আইসিসি-র ওপর নির্ভরশীল সহযোগী দেশগুলো এবং ছোট পূর্ণ সদস্য দেশগুলো ব্যাপক আর্থিক সংকটে পড়বে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচটি অনুষ্ঠিত না হলে ভারত ও পাকিস্তান উভয় বোর্ডই সরাসরি ও পরোক্ষ রাজস্ব বাবদ তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ২০০ কোটি টাকা করে লোকসানের সম্মুখীন হবে। ভারতের জন্য এই ক্ষতি সামাল দেওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ হলেও, পাকিস্তানের জন্য এটি অস্তিত্ব রক্ষার এক বড় চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আইসিসি-র মোট রাজস্বের ৫.৭৫ শতাংশ পায়, যা বছরে প্রায় ৩৪.৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই ক্ষতি কেবল এককালীন নয়। ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি বৈশ্বিক আসর রয়েছে। সম্প্রচারকারীরা যদি এই ধরনের ম্যাচের জন্য নিশ্চয়তা না পায়, তাহলে তারা ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। এর ফলস্বরূপ, পরবর্তী সময়ে সম্প্রচার মূল্য কমে যেতে পারে এবং এই ম্যাচের সঙ্গে যুক্ত স্পনসরশিপের আগ্রহও হ্রাস পেতে পারে। সব মিলিয়ে, একটি মাত্র সিদ্ধান্তের কারণে বছরের পর বছর রাজস্ব হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, যা আইসিসি-র রাজস্ব খাতে বড়সড় ধস নামানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক ক্রিকেট ইকোসিস্টেমেও দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।