ঢাকা ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একযোগে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন: ট্রাম্প

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যৌথভাবে কাজ করবে। তিনি বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে সম্মতি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এই তথ্য দেন।

তিনি বলেন, “আমাদের আলোচনার একটি বড় অংশজুড়ে ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ। আমরা অনেকক্ষণ ধরে এই বিষয়ে আলোচনা করেছি এবং এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি এবং শি’ একমত হয়েছি যে রাশিয়া ও ইউক্রেন এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যার অবসান সহজে হওয়ার নয়। শি’ আমাকে বলেছেন যে তিনি আমাদের সহযোগিতা করবেন এবং ইউক্রেন ইস্যুতে আমরা একসঙ্গে কাজ করব। আমাদের পক্ষে এর থেকে বেশি কিছু করা সম্ভব নয়।”

ইউক্রেনে যুদ্ধ অবসানে রাশিয়ার আগ্রহ ও সদিচ্ছার অভাব রয়েছে— এমন অভিযোগ তুলে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি রাশিয়ার বৃহত্তম দুই তেল কোম্পানি রোসনেফ্ট ও লুকোইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ট্রাম্প বেশ কয়েকবার মন্তব্য করেছেন যে তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই রাশিয়া ইউক্রেনে তাদের ‘যুদ্ধমেশিন’ সচল রেখেছে।

উল্লেখ্য, চীন হলো রাশিয়ার জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। শি’ জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে এক ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন যে তিনি চীনের প্রেসিডেন্টকে রাশিয়া থেকে তেল কিনতে নিষেধ করবেন। তবে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানিয়েছেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এই বিষয়ে কোনো কথা হয়নি তার।

তিনি যোগ করেন, “আমাদের মূল আলোচনা ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। শি’ বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যদি একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে তা শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্যই মঙ্গলজনক হবে। এই বিষয়ে আমিও তার সঙ্গে একমত। বর্তমানে বিশ্বে অনেক সংকট রয়েছে এবং এসব সংকট সমাধানে বড় ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূসের বিদায় ও নতুন সরকারের আগমনে ভারতের স্বস্তি এবং প্রত্যাশার দোলাচল

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একযোগে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন: ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১০:০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যৌথভাবে কাজ করবে। তিনি বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে সম্মতি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এই তথ্য দেন।

তিনি বলেন, “আমাদের আলোচনার একটি বড় অংশজুড়ে ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ। আমরা অনেকক্ষণ ধরে এই বিষয়ে আলোচনা করেছি এবং এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি এবং শি’ একমত হয়েছি যে রাশিয়া ও ইউক্রেন এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যার অবসান সহজে হওয়ার নয়। শি’ আমাকে বলেছেন যে তিনি আমাদের সহযোগিতা করবেন এবং ইউক্রেন ইস্যুতে আমরা একসঙ্গে কাজ করব। আমাদের পক্ষে এর থেকে বেশি কিছু করা সম্ভব নয়।”

ইউক্রেনে যুদ্ধ অবসানে রাশিয়ার আগ্রহ ও সদিচ্ছার অভাব রয়েছে— এমন অভিযোগ তুলে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি রাশিয়ার বৃহত্তম দুই তেল কোম্পানি রোসনেফ্ট ও লুকোইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ট্রাম্প বেশ কয়েকবার মন্তব্য করেছেন যে তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই রাশিয়া ইউক্রেনে তাদের ‘যুদ্ধমেশিন’ সচল রেখেছে।

উল্লেখ্য, চীন হলো রাশিয়ার জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। শি’ জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে এক ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন যে তিনি চীনের প্রেসিডেন্টকে রাশিয়া থেকে তেল কিনতে নিষেধ করবেন। তবে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানিয়েছেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এই বিষয়ে কোনো কথা হয়নি তার।

তিনি যোগ করেন, “আমাদের মূল আলোচনা ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। শি’ বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যদি একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে তা শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্যই মঙ্গলজনক হবে। এই বিষয়ে আমিও তার সঙ্গে একমত। বর্তমানে বিশ্বে অনেক সংকট রয়েছে এবং এসব সংকট সমাধানে বড় ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।”