একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিগত ৩৬ দিনে সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সংঘটিত ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় মোট ১০২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১ হাজার ৩৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্র নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়া এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নতুন করে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইবি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মন্তব্য করেছেন যে, সরকার যদি জনতা কর্তৃক সংঘটিত সহিংসতা (মব ভায়োলেন্স) নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়, তবে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সহিংসতা, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হয়রানি, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর হামলা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার মতো একাধিক ঘাটতি স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ সময়ে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর ৫০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টিআইবি জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের ক্ষেত্রে পুরনো ধারা বহাল রয়েছে। অযৌক্তিক মামলা দায়ের, বিনা বিচারে আটক রাখা, জামিনযোগ্য মামলায়ও দীর্ঘ সময় ধরে জামিন না দেওয়া এবং ক্ষেত্রবিশেষে সরকারি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সাংবাদিক ও পেশাজীবীদেরও হত্যার মামলায় আসামি করার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বা ‘মব’ প্রবণতা নিয়েও সংস্থাটি বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘মব’ তৈরি করে দাবি আদায়ের প্রবণতা এবং অনেক ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দাবি আদায়ে সাফল্য পাওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কৌশল বা কার্যকর পদক্ষেপের অভাব, এমনকি নিষ্ক্রিয়তা ও তোষণমূলক অবস্থানের কারণে অতি ক্ষমতায়নের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে টিআইবি। কারা হেফাজতে ও সেনাবাহিনীর হেফাজতে বিচারবহির্ভূত হত্যা, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, ঢালাওভাবে মামলায় আসামি করা, গ্রেপ্তার বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ধরনের ঘাটতির কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















