ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারা দেশে নির্বাচনি প্রচারণার পারদ এখন তুঙ্গে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে বাক্যযুদ্ধ ততই বাড়ছে। ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে প্রার্থীরা প্রতিদিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নতুন নতুন অভিযোগের তীর ছুড়ছেন। অফিস-আদালত, হাট-বাজার কিংবা চায়ের আড্ডা—সবখানেই এখন প্রধান আলোচনার বিষয় আসন্ন এই নির্বাচন। তবে নির্বাচনের এই উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই ঢাকা মহানগরীসহ বিভিন্ন আসনে ‘অস্বাভাবিক ভোটার মাইগ্রেশন’ এবং একটি বিশেষ দলের পক্ষে ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে বিএনপি।
নির্বাচনি প্রচারণার ১১তম দিনে ভোটের ময়দানে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে নারী অধিকার ও সম্মান রক্ষার বিষয়টি। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি কথিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (এক্স/টুইটার) পোস্টকে কেন্দ্র করে দিনভর বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র বাহাস চলেছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই পোস্টে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। যদিও জামায়াত শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল এবং এটি সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। এ নিয়ে উভয় পক্ষই আলাদাভাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
জামায়াত আমিরের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে এবং নারীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে রাজপথে নেমেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে একটি বড় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে রাকিব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে। একই ইস্যুতে দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত আমিরের কুশপুত্তলিকা দাহ এবং ছাত্রীদের পক্ষ থেকে ঝাড়ু মিছিল করার খবর পাওয়া গেছে।
তবে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই বিক্ষোভকে ‘দেউলিয়া রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে কুৎসা রটানো হচ্ছে এবং জামায়াত নারীদের সবচেয়ে বেশি সম্মান করে। আগামী ১২ তারিখে ভোটের মাধ্যমেই নারীরা এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন তাঁর গণসংযোগে নারী অধিকারের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত নারী নেতৃত্বের পথ অনুসরণ করে বিএনপি সবসময় নারী-পুরুষের সমান মর্যাদা রক্ষায় কাজ করবে।” কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে নারীদের অধিকার হরণের সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করার সুযোগ হারিয়েছেন বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। ঋণখেলাপির অভিযোগে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তটি আপিল বিভাগ বহাল রেখেছেন। ফলে এই আসনে এখন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর পথ অনেকটাই সহজ হয়ে গেল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। হাসনাত আবদুল্লাহ ইতিমধ্যে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তাঁকে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের এই ডামাডোলের মধ্যে নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোনাইমুড়ীর ভোরের বাজারে এই হামলায় অন্তত পাঁচজন সমর্থক আহত হয়েছেন। দিন যত যাচ্ছে, নির্বাচনি সহিংসতার ঝুঁকি ও রাজনৈতিক মেরুকরণ ততই ঘনীভূত হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























