ঢাকা ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই গোলামি; দেশ বাঁচাতে ‘না’ ভোটের ডাক জিএম কাদেরের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এবং রংপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী জিএম কাদের আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটকে ‘গোলামি’ ও ‘বেআইনি’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের মানুষের স্বার্থে নয়, বরং বাইরের কোনো শক্তির প্ররোচনায় এবং আধিপত্যবাদ কায়েমের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এই গণভোটের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট শক্তির আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান তৈরির চক্রান্ত চলছে বলে তিনি দাবি করেন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগ ও পথসভা চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। জিএম কাদের বলেন, “তারা বলছে আজাদি, আমি বলব গোলামি। তারা একটি দেশের গোলামি করার জন্যই এসব আয়োজন করছে। তারা ইনসাফের কথা বললেও বাস্তবে এটি চরম বেইনসাফ।”

গণভোট ও সাংবিধানিক সংকট:
জিএম কাদের যুক্তি দেন যে, একই দিনে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা আইনত সম্ভব নয়। তাঁর মতে, গণভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বর্তমান সরকারের এই গণভোটের আয়োজন সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি যে এক প্রকার ‘দেশদ্রোহিতা’, তা একদিন প্রমাণিত হবে। যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয় এবং সেই অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হয়, তবে তা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ ভঙ্গের শামিল হবে। এতে সংসদ তার সার্বভৌমত্ব হারাবে এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পুতুলে পরিণত হবে।”

জনগণকে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান:
দেশ ও গণতন্ত্র বাঁচাতে জাতীয় পার্টি ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, এটি কোনো দলীয় বিষয় নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্ন। তিনি জনগণকে লোভ-লালসার উর্ধ্বে উঠে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনাদের বলা হচ্ছে ‘হ্যাঁ’ বললেই সব পেয়ে যাবেন। এভাবে বোকা বানিয়ে তারা একটি বিশেষ ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। দেশ বাঁচাতে যেকোনো মূল্যে ‘না’ ভোটকে জয়ী করতে হবে।”

নির্বাচনি পরিবেশ ও আইন-শৃঙ্খলা:
নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাপা চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, দেশে বর্তমানে চিহ্নিত খুনিদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে এবং নিরীহ মানুষকে রাজনৈতিক মামলায় জেল হাজতে পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “ইনকিলাব বা বিপ্লবের নামে দেশ ধ্বংসের চেষ্টা চলছে। যারা উগ্রপন্থী ও সাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলবে।”

দলের অবস্থান ও জামায়াতের সমালোচনা:
জাতীয় পার্টির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও রংপুর বিভাগের সব আসনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীদের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। সুষ্ঠু ভোট হলে জাতীয় পার্টি এবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “একদল বলছে নারীরা চাকরি করতে পারবে না। ইসলামে তো এমন কোনো কথা নেই। আমাদের দেশে নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে বলেই দেশ এগোচ্ছে। তাদের এমন দাবি সমাজকে পিছিয়ে দেওয়ার নামান্তর।”

গণসংযোগকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক এবং জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জিএম কাদেরের এই কঠোর অবস্থান ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘না’ ভোটের পক্ষাবলম্বনকারীদের সংগঠিত করতে পারে, যা নির্বাচনি সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বের সকল বাংলাভাষীকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নববর্ষের শুভেচ্ছা

‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই গোলামি; দেশ বাঁচাতে ‘না’ ভোটের ডাক জিএম কাদেরের

আপডেট সময় : ০১:৩৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এবং রংপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী জিএম কাদের আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটকে ‘গোলামি’ ও ‘বেআইনি’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের মানুষের স্বার্থে নয়, বরং বাইরের কোনো শক্তির প্ররোচনায় এবং আধিপত্যবাদ কায়েমের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এই গণভোটের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট শক্তির আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান তৈরির চক্রান্ত চলছে বলে তিনি দাবি করেন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগ ও পথসভা চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। জিএম কাদের বলেন, “তারা বলছে আজাদি, আমি বলব গোলামি। তারা একটি দেশের গোলামি করার জন্যই এসব আয়োজন করছে। তারা ইনসাফের কথা বললেও বাস্তবে এটি চরম বেইনসাফ।”

গণভোট ও সাংবিধানিক সংকট:
জিএম কাদের যুক্তি দেন যে, একই দিনে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা আইনত সম্ভব নয়। তাঁর মতে, গণভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বর্তমান সরকারের এই গণভোটের আয়োজন সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি যে এক প্রকার ‘দেশদ্রোহিতা’, তা একদিন প্রমাণিত হবে। যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয় এবং সেই অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হয়, তবে তা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ ভঙ্গের শামিল হবে। এতে সংসদ তার সার্বভৌমত্ব হারাবে এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পুতুলে পরিণত হবে।”

জনগণকে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান:
দেশ ও গণতন্ত্র বাঁচাতে জাতীয় পার্টি ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, এটি কোনো দলীয় বিষয় নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্ন। তিনি জনগণকে লোভ-লালসার উর্ধ্বে উঠে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনাদের বলা হচ্ছে ‘হ্যাঁ’ বললেই সব পেয়ে যাবেন। এভাবে বোকা বানিয়ে তারা একটি বিশেষ ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। দেশ বাঁচাতে যেকোনো মূল্যে ‘না’ ভোটকে জয়ী করতে হবে।”

নির্বাচনি পরিবেশ ও আইন-শৃঙ্খলা:
নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাপা চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, দেশে বর্তমানে চিহ্নিত খুনিদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে এবং নিরীহ মানুষকে রাজনৈতিক মামলায় জেল হাজতে পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “ইনকিলাব বা বিপ্লবের নামে দেশ ধ্বংসের চেষ্টা চলছে। যারা উগ্রপন্থী ও সাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলবে।”

দলের অবস্থান ও জামায়াতের সমালোচনা:
জাতীয় পার্টির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও রংপুর বিভাগের সব আসনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীদের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। সুষ্ঠু ভোট হলে জাতীয় পার্টি এবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “একদল বলছে নারীরা চাকরি করতে পারবে না। ইসলামে তো এমন কোনো কথা নেই। আমাদের দেশে নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে বলেই দেশ এগোচ্ছে। তাদের এমন দাবি সমাজকে পিছিয়ে দেওয়ার নামান্তর।”

গণসংযোগকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক এবং জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জিএম কাদেরের এই কঠোর অবস্থান ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘না’ ভোটের পক্ষাবলম্বনকারীদের সংগঠিত করতে পারে, যা নির্বাচনি সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।