ঢাকা ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পার্টির জানাজা ও দাফন হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিত ‘মৃত’ জাতীয় পার্টির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় পার্টি মূলত ভারতের রাজনৈতিক দলের বাংলাদেশ শাখা হিসেবে কাজ করছে এবং তারা আসন্ন গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রংপুরের কাউনিয়া মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রংপুর-৪ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী আখতার হোসেনের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় পার্টি ও বিএনপির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা:
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “জাতীয় পার্টি অলরেডি মৃত। ভারতের মদদে তারা ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ১২ তারিখ ভোটের মধ্য দিয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক দাফন হবে।” এ সময় তিনি বিএনপির দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে বলেন, “বিএনপি প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বললেও গোপনে ‘না’ এর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই ওপেন-গোপনের খেলা বন্ধ করে তারেক জিয়া ও নাহিদ ইসলামরা যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ডাক দিয়েছেন, তাকে বিজয়ী করে ক্ষমতা কাঠামোর ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।”

ভোটারদের সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, যারা ভোটের আগের দিন অর্থ, শাড়ি বা লুঙ্গি নিয়ে আসবে, তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে। একদিনের সামান্য অর্থের লোভে আগামী ৫ বছর ভোগান্তিতে না পড়তে তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

আসিফ মাহমুদের হুঁশিয়ারি:
জনসভায় এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, ফ্যাসিস্টরা দিল্লির গ্রিন সিগন্যাল নিয়ে পুনরায় ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু দেশের জনগণ তাদের লাল কার্ড দেখানোর জন্য প্রস্তুত। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ভোটাধিকার হরণের জন্য যদি কেউ হোন্ডা-গুন্ডা নিয়ে মাস্তানি করতে চায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”

তিনি আরও অঙ্গীকার করেন, এনসিপি ও ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসলে শাপলা চত্বর গণহত্যা, বিডিআর বিদ্রোহ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে। গত ৫৪ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যে লুটপাটের শাসন চালিয়েছে, তার অবসান ঘটিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের প্রার্থী ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, যুবশক্তি কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম এবং রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খানসহ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বক্তারা সবাই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক দেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

এসো হে বৈশাখ: নতুন সূর্যের আলোয় বর্ণিল বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩

১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পার্টির জানাজা ও দাফন হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

আপডেট সময় : ০১:৩৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিত ‘মৃত’ জাতীয় পার্টির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় পার্টি মূলত ভারতের রাজনৈতিক দলের বাংলাদেশ শাখা হিসেবে কাজ করছে এবং তারা আসন্ন গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রংপুরের কাউনিয়া মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রংপুর-৪ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী আখতার হোসেনের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় পার্টি ও বিএনপির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা:
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “জাতীয় পার্টি অলরেডি মৃত। ভারতের মদদে তারা ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ১২ তারিখ ভোটের মধ্য দিয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক দাফন হবে।” এ সময় তিনি বিএনপির দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে বলেন, “বিএনপি প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বললেও গোপনে ‘না’ এর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই ওপেন-গোপনের খেলা বন্ধ করে তারেক জিয়া ও নাহিদ ইসলামরা যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ডাক দিয়েছেন, তাকে বিজয়ী করে ক্ষমতা কাঠামোর ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।”

ভোটারদের সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, যারা ভোটের আগের দিন অর্থ, শাড়ি বা লুঙ্গি নিয়ে আসবে, তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে। একদিনের সামান্য অর্থের লোভে আগামী ৫ বছর ভোগান্তিতে না পড়তে তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

আসিফ মাহমুদের হুঁশিয়ারি:
জনসভায় এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, ফ্যাসিস্টরা দিল্লির গ্রিন সিগন্যাল নিয়ে পুনরায় ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু দেশের জনগণ তাদের লাল কার্ড দেখানোর জন্য প্রস্তুত। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ভোটাধিকার হরণের জন্য যদি কেউ হোন্ডা-গুন্ডা নিয়ে মাস্তানি করতে চায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”

তিনি আরও অঙ্গীকার করেন, এনসিপি ও ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসলে শাপলা চত্বর গণহত্যা, বিডিআর বিদ্রোহ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে। গত ৫৪ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যে লুটপাটের শাসন চালিয়েছে, তার অবসান ঘটিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের প্রার্থী ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, যুবশক্তি কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম এবং রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খানসহ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বক্তারা সবাই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক দেন।