মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কিউবার শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ওয়াশিংটন একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। কিউবার ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর কার্যত তেল অবরোধের হুমকি দেওয়ার মাত্র কয়েকদিন পরই তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, কিউবা একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার সমর্থন ছাড়া তাদের টিকে থাকা কঠিন।
ফ্লোরিডার পাম বিচে অবস্থিত তার মার-আ-লাগো বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “কিউবা একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। বহুদিন ধরেই তাদের এই অবস্থা, এখন ভেনেজুয়েলাও তাদের টিকিয়ে রাখার মতো অবস্থায় নেই। তাই আমরা কিউবার সর্বোচ্চ পর্যায়ের লোকজনের সঙ্গে কথা বলছি, দেখা যাক কী হয়। আমার বিশ্বাস, আমরা কিউবার সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চলেছি।” তবে এই সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার মার্কিন অভিযান শুরুর পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ ফ্লোরিডার উপকূলবর্তী কমিউনিস্ট শাসিত দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার ওপর চাপ ক্রমশ বাড়াচ্ছে। মাদুরোর ভেনেজুয়েলা ছিল হাভানার একনিষ্ঠ মিত্র এবং কিউবার তেল আমদানির একটি প্রধান উৎস।
গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যেখানে কিউবাকে তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘোষণার পরদিন থেকেই হাভানার পেট্রলপাম্পগুলোতে জ্বালানির জন্য কিউবানদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
এদিকে, কিউবায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মাইক হ্যামার জানিয়েছেন, মধ্য কিউবার ত্রিনিদাদ প্রদেশ সফরের সময় কিছু স্থানীয় বাসিন্দা তাকে মৌখিকভাবে অপমান করেছে। হ্যামারের মতে, তারা কিউবার সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েস্টার্ন হেমিস্ফিয়ার বিষয়ক ব্যুরো এক বিবৃতিতে বলেছে, “অবৈধ কিউবান শাসনব্যবস্থাকে অবিলম্বে তাদের দমনমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। আমাদের কূটনীতিকরা কিউবার জনগণের সঙ্গে সাক্ষাৎ অব্যাহত রাখবেন।”
ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যিনি মায়ামিতে জন্মগ্রহণকারী একজন নির্বাসিত কিউবান সন্তান, উভয়েই হাভানায় শাসন পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। মাদুরোর পতনের পর ট্রাম্প কিউবাকে সতর্ক করে বলেছিলেন, “দ্রুত একটি চুক্তি করো, নতুবা অজ্ঞাত পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”
অন্যদিকে, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, তার প্রশাসন কিউবায় মানবিক সহায়তা, যার মধ্যে খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য অন্তর্ভুক্ত, পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে তিনি কিউবায় তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতেও কাজ করছেন বলে জানান।
কিউবা সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দ্বীপদেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরোধ করার চেষ্টার অভিযোগ এনেছে। দেশটিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে এবং পেট্রলপাম্পে লাইনের দৈর্ঘ্য ক্রমাগত দীর্ঘ হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























