ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে শ্রমিকবাহী একটি বাসে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। রোববার দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই ভয়াবহ হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধকবলিত অঞ্চলের সম্মুখভাগ থেকে বেশ দূরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আঞ্চলিক প্রশাসন জানায়, বাসটি দিনিপ্রোপেত্রোভস্কের তেরনিভকা শহরের কাছাকাছি দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। এলাকাটি যুদ্ধের সম্মুখসারি থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইউক্রেনের বৃহত্তম বেসরকারি জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘ডিটিইকে’ নিশ্চিত করেছে যে, নিহতরা সবাই তাদের একটি খনিতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবা বিভাগ হামলার পরবর্তী কিছু ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায় ড্রোন বিস্ফোরণে বাসটির জানালার কাচ চুরমার হয়ে গেছে এবং সামনের অংশ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দ্র গাঞ্জা টেলিগ্রামে এক বার্তায় জানান, পাভলোহরাদ জেলায় একটি শাটল বাসের কাছে শত্রুপক্ষের ড্রোনটি আঘাত হানে। এতে ১২ জন নিহতের পাশাপাশি আরও অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এছাড়া একই অঞ্চলে রাতভর চালানো পৃথক ড্রোন হামলায় দিনিপ্রো শহরে আরও এক নারী ও এক পুরুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
এই রক্তক্ষয়ী হামলা এমন এক সময়ে ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শীতকালে ইউক্রেনের শহরগুলোতে হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছেন। তবে ক্রেমলিন ট্রাম্পের সেই দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেয়নি এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতিও সেই সমঝোতার কোনো প্রতিফলন দেখাচ্ছে না।
এদিকে একই দিন ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় গভর্নরের তথ্যমতে, সেখানে একটি মাতৃসদনে রুশ ড্রোন হামলায় চিকিৎসাধীন দুই নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে রুশ বাহিনীর হামলা আরও জোরদার হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























