ঢাকা ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

দুই বছর পর সীমিত পরিসরে খুলল রাফা ক্রসিং: যাতায়াতে কঠোর নজরদারি ইসরাইলের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৩:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সঙ্গে মিসরের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ রাফা সীমান্ত ক্রসিংটি ‘সীমিত পরিসরে’ খুলে দেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে সোমবার থেকে উভয় দেশের মধ্যে নির্ধারিত সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন বলে জানা গেছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি ইসরাইলি বাহিনীর কঠোর নজরদারির অধীনে থাকবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন ক্রসিংটি দিয়ে উভয়মুখী চলাচল শুরু হবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫০ জন ফিলিস্তিনি গাজা ত্যাগ করার সুযোগ পাবেন এবং বিপরীতে ৫০ জন উপত্যকায় প্রবেশ করতে পারবেন। তবে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্তারোপ করা হয়েছে; কেবল যুদ্ধের সময় যারা গাজা ছেড়ে গিয়েছিলেন, তারাই এখন ফিরে আসার অনুমতি পাবেন। পুরো যাতায়াত প্রক্রিয়াটি অত্যাধুনিক নজরদারি যন্ত্রের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করবে ইসরাইল।

সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা গেছে, প্রতিদিন গাজায় প্রবেশ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের একটি তালিকা মিসরীয় কর্তৃপক্ষ ইসরাইলের কাছে পাঠাবে। ইসরাইলি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিভাগ সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদনের পরই তারা প্রবেশের সুযোগ পাবেন। একইভাবে গাজা ত্যাগ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও কঠোর স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকার সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই রাফা ক্রসিংটি ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরাইলি বাহিনী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। যদিও এর আগে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রাথমিক পর্যায়ে এটি খুলে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নানা শর্ত ও কৌশলগত কারণে তা দীর্ঘায়িত হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সীমিত পরিসরে ক্রসিংটি খুলে দেওয়া হলেও গাজাবাসীর যাতায়াত এখন ইসরাইলি অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে সীমান্ত খুলে দেওয়ার এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সোমবারও দক্ষিণ গাজার রাফায় ড্রোন হামলায় এক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় উপত্যকা জুড়ে ইসরাইলি হামলায় আরও ২৬ জন নিহত এবং অন্তত ৬৮ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেও গত কয়েক দিনে ৫২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং উদ্ধার করা হয়েছে ৭১৫টি মরদেহ।

দীর্ঘ দুই বছরের এই ভয়াবহ আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহতের মোট সংখ্যা ৭১ হাজার ৭৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজার ৫৫১ জন। উপত্যকা জুড়ে মানবিক বিপর্যয় ও ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

দুই বছর পর সীমিত পরিসরে খুলল রাফা ক্রসিং: যাতায়াতে কঠোর নজরদারি ইসরাইলের

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সঙ্গে মিসরের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ রাফা সীমান্ত ক্রসিংটি ‘সীমিত পরিসরে’ খুলে দেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে সোমবার থেকে উভয় দেশের মধ্যে নির্ধারিত সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন বলে জানা গেছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি ইসরাইলি বাহিনীর কঠোর নজরদারির অধীনে থাকবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন ক্রসিংটি দিয়ে উভয়মুখী চলাচল শুরু হবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫০ জন ফিলিস্তিনি গাজা ত্যাগ করার সুযোগ পাবেন এবং বিপরীতে ৫০ জন উপত্যকায় প্রবেশ করতে পারবেন। তবে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্তারোপ করা হয়েছে; কেবল যুদ্ধের সময় যারা গাজা ছেড়ে গিয়েছিলেন, তারাই এখন ফিরে আসার অনুমতি পাবেন। পুরো যাতায়াত প্রক্রিয়াটি অত্যাধুনিক নজরদারি যন্ত্রের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করবে ইসরাইল।

সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা গেছে, প্রতিদিন গাজায় প্রবেশ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের একটি তালিকা মিসরীয় কর্তৃপক্ষ ইসরাইলের কাছে পাঠাবে। ইসরাইলি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিভাগ সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদনের পরই তারা প্রবেশের সুযোগ পাবেন। একইভাবে গাজা ত্যাগ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও কঠোর স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকার সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই রাফা ক্রসিংটি ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরাইলি বাহিনী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। যদিও এর আগে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রাথমিক পর্যায়ে এটি খুলে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নানা শর্ত ও কৌশলগত কারণে তা দীর্ঘায়িত হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সীমিত পরিসরে ক্রসিংটি খুলে দেওয়া হলেও গাজাবাসীর যাতায়াত এখন ইসরাইলি অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে সীমান্ত খুলে দেওয়ার এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সোমবারও দক্ষিণ গাজার রাফায় ড্রোন হামলায় এক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় উপত্যকা জুড়ে ইসরাইলি হামলায় আরও ২৬ জন নিহত এবং অন্তত ৬৮ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেও গত কয়েক দিনে ৫২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং উদ্ধার করা হয়েছে ৭১৫টি মরদেহ।

দীর্ঘ দুই বছরের এই ভয়াবহ আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহতের মোট সংখ্যা ৭১ হাজার ৭৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজার ৫৫১ জন। উপত্যকা জুড়ে মানবিক বিপর্যয় ও ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।