নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে অবশেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার রবিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে আজ (রবিবার) সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে এবং একই দিন থেকে জামায়াতের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে।
ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া নিজেও জানিয়েছেন যে, প্রথমে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের (রিকশা প্রতীক) শাহজাহান শিবলী সংবাদ সম্মেলন করবেন। এরপর জামায়াতও আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচারণায় নামবে।
এর আগে, ১১-দলীয় জোট থেকে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শাহজাহান শিবলীকে সমর্থন দেওয়ায় ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বোনের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জেলা নির্বাচন কমিশনে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে পারেননি। পরবর্তীতে, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া জানান যে, সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তার মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। এরপর তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
তবে, জামায়াতের প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় জোটের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। একই সাথে, ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে জামায়াতের সমর্থকরাও হতাশ হয়েছিলেন। স্থানীয়ভাবে শাহজাহান শিবলীর পরিচিতি কম থাকায় আসনটি ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
এই পরিস্থিতিতে, গতকাল শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ১১-দলীয় জোটের ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন যুব শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক তুহিন মাহমুদ ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়াকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে নির্বাচন করার আহ্বান জানান। পরবর্তীতে, তিনি সোনারগাঁওয়ে জোটের সমর্থকদের নিয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে একটি মিছিলও করেন। এই সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই অবশেষে ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















