সংসদ নির্বাচনের আমেজে ভাসছে সারা দেশ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি হবিগঞ্জ-৩ আসনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন বিষয়ক বহুল প্রতীক্ষিত গণভোট। তবে সংসদ নির্বাচন ঘিরে জনমনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকলেও, এই গণভোট নিয়ে হবিগঞ্জ-৩ আসনের অধিকাংশ মানুষ এখনো অন্ধকারে। বিশেষ করে লাখাই উপজেলার ভাটি অঞ্চলের মানুষের মধ্যে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা অত্যন্ত সীমিত। অনেকেই জানেন না গণভোট কবে হবে, কী বিষয়ে হবে কিংবা এতে তাদের ভূমিকা কী।
আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ-৩ আসনের তিনটি উপজেলাতেই এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রচার চোখে পড়ছে না। প্রধান সড়ক, হাটবাজার ও জনসমাগমস্থলগুলোতে কিছু স্থানে গণভোট সংক্রান্ত পোস্টার, ব্যানার বা সচেতনতা কার্যক্রম দেখা গেলেও, অধিকাংশ এলাকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগের অভাব গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি করতে পারেনি।
গ্রামীণ জনপদে আসন্ন গণভোট নিয়ে একধরনের নীরবতা ও অনাগ্রহ স্পষ্ট। যেখানে হাট-বাজার ও চায়ের দোকানে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরব আলোচনা, সেখানে গণভোট বিষয়ে তেমন কোনো আলাপচারিতা নেই। লাখাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ভোটারই জানেন না গণভোট কী, কেন এটি আয়োজন করা হচ্ছে, কিংবা এতে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিলে তার প্রভাব কী হতে পারে। করাব গ্রামের কৃষক আসব আলী জানান, “নির্বাচন কী, ভোট কী, এইটা বুঝি। কিন্তু গণভোট আবার কী জিনিস, এইটা কেউ আমাদের বোঝায় নাই।” হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভ্যানচালক সাহিদুল হকও একই সুরে বলেন, “ভোট হইবো জানি, ভোট দিমু। কিন্তু গণভোট কোনটা, সেইটা তো বুঝি না।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও লাখাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, “আমরা মাঠপর্যায়ে প্রচার ও মতবিনিময় কার্যক্রম জোরদার করেছি, যাতে ভোটাররা গণভোটের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান। ‘হ্যাঁ-না ভোট’ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়াটি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোটের আগেই গণভোটের বার্তা সব ভোটারের কাছে পৌঁছে যাবে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ভাটি অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলায় যোগাযোগ সমস্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের আরও আগে থেকেই সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন ছিল। এসব এলাকায় উঠান বৈঠক, মাইকিং কিংবা স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে সরাসরি প্রচার চালানো জরুরি ছিল। গণভোটের গুরুত্ব ও প্রভাব পরিষ্কারভাবে না বোঝালে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বড় অংশ বিভ্রান্ত থাকতে পারে এবং এর ফলে ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তের এই প্রচারণা গ্রামীণ জনপদের নীরবতা ভাঙতে এবং ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে কতটা সফল হয়।
রিপোর্টারের নাম 





















