আসন্ন সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি দলটির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর ফলে ভোটের হিসাবনিকাশ পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, যা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নেতাকর্মীদের মধ্যে আশাবাদ জাগিয়েছে। সচেতন মহলের ধারণা, বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হতে পারে।
জানা গেছে, এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ (বাচ্চু মোল্লা)। অন্যদিকে, দলটির উপজেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) নুরুজ্জামান (হাবলু মোল্লা) বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন।
এছাড়াও, এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে স্থানীয়দের মতে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা যদি শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে অবস্থান করেন, তাহলে বিএনপির ভোট বিভক্ত হয়ে যাবে এবং এর ফলে জামায়াতের প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, কুষ্টিয়া-১ আসনের কয়েকটি ইউনিয়ন পদ্মা নদীর বুকে অবস্থিত চরাঞ্চলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চরাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দারা বিএনপির প্রার্থী রেজা আহাম্মেদ (বাচ্চু মোল্লার) সমর্থকদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে। বিশেষ করে, চরের খাস জমিতে বসবাসকারী কয়েকটি পরিবারকে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। চরাঞ্চলের প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার আওয়ামী লীগের সমর্থক। অভিযোগ উঠেছে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনার জেরে তাদের একটি অংশ এবার জামায়াত প্রার্থীর দিকে ঝুঁকতে পারে, যা বিএনপির জন্য আরও জটিলতা তৈরি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















