চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে ১১-দলীয় জোটভুক্ত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন ন্যাশনাল কংগ্রেস অব বাংলাদেশের (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য জোবায়রুল আলম মানিক। শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের আনোয়ারার একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা প্রদান করেন। তবে এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জোটের শরিকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জোবায়রুল আলম মানিক জানান, চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াত এনসিপি প্রার্থীর সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছে। এর প্রতিবাদ হিসেবেই তারা চট্টগ্রাম-১৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে জোটের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার স্থগিত করলেও ‘হ্যাঁ’ ভোটের সপক্ষে তাদের দলীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, এনসিপি নেতার এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন কর্ণফুলী উপজেলা জামায়াতের আমির মনির আবছার। তিনি দাবি করেন, জোবায়রুল আলম মানিক জোটের কাছে বেশ কিছু ‘অযৌক্তিক ও ব্যক্তিগত’ দাবি পেশ করেছিলেন। যার মধ্যে রয়েছে—ক্ষমতায় গেলে তাকে আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান এবং কর্ণফুলী উপজেলায় এনসিপি থেকে ভাইস চেয়ারম্যান পদ প্রদান করা। এ ছাড়া আনোয়ারা ও কর্ণফুলী মিলিয়ে ৫-৬টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদও দাবি করেন তিনি। জামায়াত নেতা আরও বলেন, এসব উদ্ভট দাবি মেনে না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রচার স্থগিতের এই নাটক সাজিয়েছেন। এটি এনসিপির দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং মানিকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আনোয়ারা উপজেলা এনসিপির সমন্বয়কারী মাহমুদ উল্লাহ মাহমুদ। তিনি জানান, প্রচার স্থগিতের বিষয়ে তাকে কিংবা তার স্থানীয় সংগঠনকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। এমনকি কেন্দ্র থেকেও এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো নির্দেশনা আসেনি। ফলে মানিকের এই একক ঘোষণা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জোবায়রুল আলম মানিকের সঙ্গে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহ, সদস্য সাহেদুর রহমান শাহেদ, ইরফান মাহমুদ, মো. আকাশ নুর, জহির উদ্দিন চৌধুরী হিমেল এবং কর্ণফুলী উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী সানাউল্লাহ মির্জাসহ স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। জোটের অভ্যন্তরীণ এই কোন্দল শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 






















