ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ঝিনাইদহ-৪ আসনে জাতীয় নির্বাচন: বিএনপি প্রার্থীর দ্বন্দ্বে জামায়াতের সম্ভাব্য সুবিধা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২২:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ-৪ আসনের কালীগঞ্জ নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। একসময়ের বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার ভোটের লড়াইয়ে একাধিক মেরুকরণ দেখা যাচ্ছে। বিএনপির মূল প্রার্থী হিসেবে দলীয় প্রতীক নিয়ে গণঅধিকার পরিষদ থেকে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খান নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বিএনপি নেতা ও তৃণমূলের কাছে পরিচিত সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা দলটির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই দুই প্রার্থীর টানাপোড়েনের মাঝে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু তালিবও নিজের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করছেন এবং ভোটারদের সমর্থন আদায়ে সচেষ্ট রয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে, রাশেদ খান বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা স্থানীয় নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন একজনকে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। এর ফলে দলটির একাংশ বিক্ষোভও প্রদর্শন করেছিল। তবে, সময় যত গড়াচ্ছে, নির্বাচনী চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থানীয় বিএনপির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে রাশেদ খানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। রাশেদের অনুসারীরা স্থানীয় বিএনপি নেতা হামিদুল ইসলাম হামিদ এবং প্রয়াত বিএনপি নেতা শহীদুজ্জামান বেল্টুর সহধর্মিণী মুর্শিদা জামানকে তাদের মূল শক্তি হিসেবে দেখছেন। ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান কালীগঞ্জের বিভিন্ন সমস্যা, যেমন চাঁদাবাজি, মাদক, যাতায়াত, জলাবদ্ধতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় ভোটারদের একাংশ মনে করছেন, তারা প্রার্থীর চেয়ে ধানের শীষ প্রতীকেই ভোট দেবেন, প্রার্থীর পরিচয় এখানে মুখ্য নয়। বিষয়খালী এলাকার এক ভোটার সাইফুল ইসলাম জানান, রাশেদ খান প্রার্থী হিসেবে খারাপ নন, তবে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় আরো স্বচ্ছতা থাকলে স্থানীয় ভোটার ও সমর্থকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যেত।

নিজের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপির দলীয় প্রার্থী রাশেদ খান বলেছেন, তরুণ ভোটাররা এবার নির্বাচনে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আবির্ভূত হবেন। তিনি তরুণ ভোটারদের গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার সমুন্নত রেখে ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, ঝিনাইদহ-৪ আসন কৃষক-শ্রমিক অধ্যুষিত এবং এটি বিএনপির ঘাঁটি। এখানে যিনি মনোনয়ন পাবেন, তিনিই বিজয়ী হবেন। তিনি বিএনপিকে শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া গণতন্ত্র চর্চার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই প্ল্যাটফর্মকে দেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে জাগ্রত রাখবে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করবে, এই ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য কালীগঞ্জের ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ দীর্ঘদিন ধরে দলটির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা এবং মাঠের রাজনীতিতে দৃশ্যমান উপস্থিতির কারণে তিনি নিজ এলাকায় একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। তা সত্ত্বেও, ফিরোজ নির্বাচনী মাঠে অনড় অবস্থানে রয়েছেন এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশকে সঙ্গে নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

জেলা বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে ফিরোজের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা দলের ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্থানীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞ অনেকেই মনে করছেন, এই আসনে ফিরোজের জনপ্রিয়তা উপেক্ষা করে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়াই বর্তমান সংকটের মূল কারণ।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে বিএনপিতে নবীন রাশেদ খান এবং অন্যদিকে তৃণমূল থেকে উঠে আসা ফিরোজ – এই দুই প্রার্থীর লড়াই আসনটিতে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। দলীয় কর্মী-সমর্থকরা শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত মানবেন, নাকি ফিরোজকে সমর্থন দেবেন, তা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বিধা কাজ করছে।

সাইফুল ইসলাম ফিরোজ জানিয়েছেন, তিনি দুঃসময়ে মানুষের পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিজয় ছিনিয়ে আনবেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী ১২ তারিখের ভোটেই সবকিছুর ফয়সালা হবে, যতই চাপ আসুক না কেন।

বিএনপির প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর এই টানাপোড়েনের সুযোগে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়ে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব মনে করছেন, দিন যত গড়াচ্ছে, ততই জামায়াতের পাল্লা ভারি হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর ফ্যাসিবাদ ফিরে আসুক তা চায় না। এবারের নির্বাচন হবে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও জুলুমবাজদের বিরুদ্ধে। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে তিনি এলাকার মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রমাণ করেছে বিএনপি সরকার: অর্থমন্ত্রী

ঝিনাইদহ-৪ আসনে জাতীয় নির্বাচন: বিএনপি প্রার্থীর দ্বন্দ্বে জামায়াতের সম্ভাব্য সুবিধা

আপডেট সময় : ০৯:২২:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ-৪ আসনের কালীগঞ্জ নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। একসময়ের বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার ভোটের লড়াইয়ে একাধিক মেরুকরণ দেখা যাচ্ছে। বিএনপির মূল প্রার্থী হিসেবে দলীয় প্রতীক নিয়ে গণঅধিকার পরিষদ থেকে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খান নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বিএনপি নেতা ও তৃণমূলের কাছে পরিচিত সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা দলটির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই দুই প্রার্থীর টানাপোড়েনের মাঝে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু তালিবও নিজের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করছেন এবং ভোটারদের সমর্থন আদায়ে সচেষ্ট রয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে, রাশেদ খান বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা স্থানীয় নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন একজনকে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। এর ফলে দলটির একাংশ বিক্ষোভও প্রদর্শন করেছিল। তবে, সময় যত গড়াচ্ছে, নির্বাচনী চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থানীয় বিএনপির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে রাশেদ খানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। রাশেদের অনুসারীরা স্থানীয় বিএনপি নেতা হামিদুল ইসলাম হামিদ এবং প্রয়াত বিএনপি নেতা শহীদুজ্জামান বেল্টুর সহধর্মিণী মুর্শিদা জামানকে তাদের মূল শক্তি হিসেবে দেখছেন। ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান কালীগঞ্জের বিভিন্ন সমস্যা, যেমন চাঁদাবাজি, মাদক, যাতায়াত, জলাবদ্ধতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় ভোটারদের একাংশ মনে করছেন, তারা প্রার্থীর চেয়ে ধানের শীষ প্রতীকেই ভোট দেবেন, প্রার্থীর পরিচয় এখানে মুখ্য নয়। বিষয়খালী এলাকার এক ভোটার সাইফুল ইসলাম জানান, রাশেদ খান প্রার্থী হিসেবে খারাপ নন, তবে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় আরো স্বচ্ছতা থাকলে স্থানীয় ভোটার ও সমর্থকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যেত।

নিজের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপির দলীয় প্রার্থী রাশেদ খান বলেছেন, তরুণ ভোটাররা এবার নির্বাচনে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আবির্ভূত হবেন। তিনি তরুণ ভোটারদের গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার সমুন্নত রেখে ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, ঝিনাইদহ-৪ আসন কৃষক-শ্রমিক অধ্যুষিত এবং এটি বিএনপির ঘাঁটি। এখানে যিনি মনোনয়ন পাবেন, তিনিই বিজয়ী হবেন। তিনি বিএনপিকে শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া গণতন্ত্র চর্চার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই প্ল্যাটফর্মকে দেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে জাগ্রত রাখবে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করবে, এই ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য কালীগঞ্জের ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ দীর্ঘদিন ধরে দলটির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা এবং মাঠের রাজনীতিতে দৃশ্যমান উপস্থিতির কারণে তিনি নিজ এলাকায় একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। তা সত্ত্বেও, ফিরোজ নির্বাচনী মাঠে অনড় অবস্থানে রয়েছেন এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশকে সঙ্গে নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

জেলা বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে ফিরোজের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা দলের ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্থানীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞ অনেকেই মনে করছেন, এই আসনে ফিরোজের জনপ্রিয়তা উপেক্ষা করে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়াই বর্তমান সংকটের মূল কারণ।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে বিএনপিতে নবীন রাশেদ খান এবং অন্যদিকে তৃণমূল থেকে উঠে আসা ফিরোজ – এই দুই প্রার্থীর লড়াই আসনটিতে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। দলীয় কর্মী-সমর্থকরা শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত মানবেন, নাকি ফিরোজকে সমর্থন দেবেন, তা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বিধা কাজ করছে।

সাইফুল ইসলাম ফিরোজ জানিয়েছেন, তিনি দুঃসময়ে মানুষের পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিজয় ছিনিয়ে আনবেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী ১২ তারিখের ভোটেই সবকিছুর ফয়সালা হবে, যতই চাপ আসুক না কেন।

বিএনপির প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর এই টানাপোড়েনের সুযোগে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়ে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব মনে করছেন, দিন যত গড়াচ্ছে, ততই জামায়াতের পাল্লা ভারি হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর ফ্যাসিবাদ ফিরে আসুক তা চায় না। এবারের নির্বাচন হবে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও জুলুমবাজদের বিরুদ্ধে। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে তিনি এলাকার মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।