যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে তেহরানের উপকণ্ঠে হাজার হাজার কবর খননের উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, রাজধানীর বৃহত্তম কবরস্থান ‘বেহেশত-ই-জাহরা’-তে এই বিশেষ প্রস্তুতি চলছে।
ইরান সরকারের দাবি, সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য এটি একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়, সে ক্ষেত্রে নিজেদের সম্ভাব্য হতাহতের মোকাবিলায় এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ না করলে এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোরতা পরিহার না করলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারে।
এরই মধ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একটি শক্তিশালী স্ট্রাইক গ্রুপ ইরানের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চায় না, তবে পরিস্থিতি বাধ্য করলে বিকল্প পথে হাঁটতে হবে।
অন্যদিকে, ইরান আবারও দাবি করেছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। একই সঙ্গে দেশটি আলোচনার দরজা খোলা রাখার কথাও জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মন্তব্য করেন, হুমকির পরিবেশে আলোচনা সম্ভব নয়, তবে ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক সংলাপে ইরানের আপত্তি নেই।
সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে ইরান সম্প্রতি তাদের বাহিনীতে প্রায় এক হাজার নতুন কৌশলগত ড্রোন যুক্ত করেছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম। একই সময়ে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় রহস্যজনক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























