চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি প্রায় আট বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে, স্থানীয়দের দেওয়া ভাড়ায় একটি ভবনে কোনোমতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলছে। এতে করে লক্ষাধিক মানুষ পুরোদমে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশাল এ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের গ্রামবাসী স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে যখন এই কেন্দ্রে নিয়োজিত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. আলী চৌধুরী চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) চলে গেছেন, যা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে মেখল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু বিগত ১২ বছর ধরে মূল ভবনটি জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। প্রায় দশ বছর আগে, কেন্দ্রে নিয়োজিত তৎকালীন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. আলী চৌধুরী ২০১৩ সালের ২২ মে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে ভবনটির প্রয়োজনীয় মেরামতের জন্য একটি চিঠি প্রেরণ করেছিলেন। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০১৪ সালে কেন্দ্রটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই কেন্দ্রটি প্রসূতি মা, শিশু ও বয়স্কদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছিল। তবে, দুটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার পর থেকে জনবল এবং সেবার মান ধীরে ধীরে কমতে থাকে। সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, আশির দশকে নির্মিত সেবা কেন্দ্র ভবনের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল ধরেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে, এবং সিলিং ও বিম থেকে কংক্রিট ভেঙে পড়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি চিকিৎসকের আবাসিক ভবনের ছাদের টিন, দরজা ও জানালাও ভেঙে গেছে।
২০২৪ সালে কেন্দ্রটির অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে এর কার্যক্রম একটি স্থানীয় ভাড়া ভবনে স্থানান্তরিত হয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণই এই অস্থায়ী কেন্দ্রের ভাড়ার অর্থ পরিশোধ করে আসছেন। এর মধ্যেই, সপ্তাহে তিন দিন দায়িত্ব পালনকারী উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. আলী চৌধুরীর এলপিআর-এ চলে যাওয়ায় কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।
পূর্ব মেখল এলাকার বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন বলেন, “আমাদের ইউনিয়নের পুরাতন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এটি। এখানে মানুষ একসময় নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পেত। বর্তমানে ভবনগুলো পরিত্যক্ত থাকার কারণে আগের মতো আর মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারছে না। অবিলম্বে ভবনগুলো নির্মাণ করে স্বাস্থ্যসেবা চালু করার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
স্বাস্থ্যকেন্দ্র এলাকার সমাজসেবক মোরশেদ জানান, “দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায়, আমরা স্থানীয়রা পাশের একটি বিল্ডিংয়ে অস্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র আমাদের টাকায় ভাড়া নিয়েছি। সেই কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা চলছে।”
হাটহাজারী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, “মেখল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রসহ উপজেলায় আরও কয়েকটি কেন্দ্রের নতুন ভবন ২০২৪ সালে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণের কোনো আদেশ আমরা পাইনি।” নতুন ভবন নির্মাণে সরকারি উদ্যোগের অভাব এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর করুণ দশা মেখলবাসীর জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















