## সিলেট-২ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে দুই বলয়ের ঐক্য
সিলেট, [আজকের তারিখ]: দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে সিলেট-২ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দুটি প্রভাবশালী অংশ ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। নানা জল্পনা-কল্পনা ও রাজনৈতিক গুঞ্জনকে পেছনে ফেলে দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বিভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে কিছু নেতার ভুল তথ্যের কারণে কেন্দ্রীয় নেত্রী ও ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা মাঠপর্যায়ের ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এর ফলে অনেক নিবেদিতপ্রাণ কর্মী দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হন। এই বিভেদকে কাজে লাগিয়ে কিছু নেতা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির চেষ্টা করেন, যা সিলেট-২ আসনে বিএনপির রাজনীতিতে দুটি ভিন্ন মেরুকরণের জন্ম দেয়। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে একটি বলয় এবং তাহসিনা রুশদীর লুনা-র নেতৃত্বে অন্য বলয়টি এতদিন আলাদাভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। লুনা-র অনুসারী হিসেবে পরিচিত কিছু স্থানীয় নেতা একতরফা রাজনীতি চর্চার মাধ্যমে এই বিভেদকে আরও উস্কে দেন এবং নিজেদের সুবিধার্থে নেত্রীকে ভুল তথ্য দিয়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের দলীয় কার্যক্রম থেকে দূরে রাখেন। বিশ্বনাথ উপজেলায় এই দুই গোষ্ঠীর বিরোধ একসময় রক্তপাতে রূপ নিলেও, ওসমানীনগরে উভয় পক্ষ মুখোমুখি সভায় মিলিত হয়।
দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে মোকাবেলা করতে অবশেষে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। দুই বলয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব অর্পিত হয় সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর ওপর।
শনিবার সিলেট নগরীর লামাবাজারস্থ লাভিস্তা হোটেল মিলনায়তনে ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ উপজেলা এবং পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐক্যের ঘোষণা দেওয়া হয়। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলার সকল সংসদীয় আসনের সমন্বয়ক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-২ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির উপস্থিত না থাকলেও, তার পূর্ণ সমর্থন ও সম্মতি ছিল বলে সভা সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সভায় তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, রাজনৈতিক জীবনে ভুল বোঝাবুঝি হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু এখন আর বিভক্ত থাকার কোনো অবকাশ নেই। সকল ভেদাভেদ ভুলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমরা সবাই বিএনপি পরিবারের সদস্য। মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিহিংসা নয়। বিএনপি গণমানুষের দল এবং এর মূল শক্তি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সিলেট-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সকলকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ভবিষ্যতে পুনরায় বিরোধ সৃষ্টির সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেই সুযোগ আর থাকবে না। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কেউ বিরোধে জড়ালে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও গণমুখী নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ময়নুল হক চৌধুরী, সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম ফারুক, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, উপজেলা চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া, ইমরান রব্বানী, ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস, সুহেল আহমদ চৌধুরী, ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস টি এম ফখর উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহ, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী ও সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, বিশ্বনাথের প্রবীণ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গয়াস মিয়া, চেয়ারম্যান ধলা মিয়া, রুহেল মিয়া এবং বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম।
এছাড়াও, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় করার লক্ষ্যে আগামী ২ অথবা ৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরের উপস্থিতিতে দুই উপজেলায় দুটি কর্মীসভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কৌশল নির্ধারণ, সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 






















