ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

সিলেটে চাঞ্চল্যকর ‘ক্লুলেস’ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৯:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের জালালাবাদ থানা এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। গত ২৯ জানুয়ারি উদ্ধার হওয়া এক ব্যক্তির অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক নারী ও এক কিশোরীসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার রাতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পুলিশ জানায়, শুক্রবার গভীর রাতে নগরীর সোনারপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— জালালাবাদ থানার বড়পৌদ এলাকার আব্দুল মতিন (৪৫), নগরীর সোনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা খালেদা বেগম (৩২) এবং তার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী কন্যা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি দুপুরে জালালাবাদ থানার হাটখোলা ইউনিয়নের উমাইরগাঁও এলাকায় বাদেশ্বর নদীর উত্তর পাড়ে ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাশের ছবি প্রকাশের পর নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। নিহত ব্যক্তির নাম শোয়েবুর রহমান ওরফে শিহাব ওরফে রাজ (৩০)। তিনি এয়ারপোর্ট থানার বড়শালা মংলিপাড়া এলাকার আমীর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সয়াইবুর রহমান বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিহত শোয়েবুর রহমান ২০২৩ সাল থেকে গ্রেপ্তার খালেদা বেগমের বাসায় তার সন্তানদের আরবি গৃহশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। খালেদা বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকায় শোয়েবুর ওই বাসার সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব পান। এই সুবাদে খালেদা বেগমের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, শোয়েবুর রাজ খালেদা বেগমকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং যৌথভাবে জমি কেনার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে পাওনা টাকার জন্য চাপ দিলে শোয়েবুর ওই পরিবারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি খালেদা বেগমের কিশোরী কন্যার সঙ্গেও তিনি অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে। মূলত এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও অর্থ আত্মসাতের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রমাণ করেছে বিএনপি সরকার: অর্থমন্ত্রী

সিলেটে চাঞ্চল্যকর ‘ক্লুলেস’ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩

আপডেট সময় : ০২:৩৯:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিলেটের জালালাবাদ থানা এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। গত ২৯ জানুয়ারি উদ্ধার হওয়া এক ব্যক্তির অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক নারী ও এক কিশোরীসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার রাতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পুলিশ জানায়, শুক্রবার গভীর রাতে নগরীর সোনারপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— জালালাবাদ থানার বড়পৌদ এলাকার আব্দুল মতিন (৪৫), নগরীর সোনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা খালেদা বেগম (৩২) এবং তার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী কন্যা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি দুপুরে জালালাবাদ থানার হাটখোলা ইউনিয়নের উমাইরগাঁও এলাকায় বাদেশ্বর নদীর উত্তর পাড়ে ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাশের ছবি প্রকাশের পর নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। নিহত ব্যক্তির নাম শোয়েবুর রহমান ওরফে শিহাব ওরফে রাজ (৩০)। তিনি এয়ারপোর্ট থানার বড়শালা মংলিপাড়া এলাকার আমীর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সয়াইবুর রহমান বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিহত শোয়েবুর রহমান ২০২৩ সাল থেকে গ্রেপ্তার খালেদা বেগমের বাসায় তার সন্তানদের আরবি গৃহশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। খালেদা বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকায় শোয়েবুর ওই বাসার সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব পান। এই সুবাদে খালেদা বেগমের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, শোয়েবুর রাজ খালেদা বেগমকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং যৌথভাবে জমি কেনার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে পাওনা টাকার জন্য চাপ দিলে শোয়েবুর ওই পরিবারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি খালেদা বেগমের কিশোরী কন্যার সঙ্গেও তিনি অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে। মূলত এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও অর্থ আত্মসাতের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।