ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

প্রতিহিংসা নয় মানবিকতা: পোস্টার ছেঁড়া সেই তিন কিশোরকে থানা থেকে মুক্ত করলেন রাশেদ খাঁন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৮:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনী প্রচারণার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে আটক তিন কিশোরকে কোনো প্রকার আইনি জটিলতা ছাড়াই থানা থেকে ছাড়িয়ে এনেছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খাঁন। শুক্রবার রাতে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুশোবাড়িয়া বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে প্রার্থীর এমন মানবিক আচরণ স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার রাতে কুশোবাড়িয়া বাজার এলাকায় রাশেদ খাঁনের নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এর বেশ কিছু পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে ওই তিন কিশোরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে গেলে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিষয়টি জানার পর রাশেদ খাঁন কঠোর কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে বরং সহনশীলতার পরিচয় দেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন এবং কিশোরদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। প্রার্থীর সদিচ্ছায় পুলিশ ওই কিশোরদের মুক্তি দেয়।

পুলিশ হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে ওই তিন কিশোর। তারা জানায়, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা কারো প্ররোচনায় নয়, বরং নেহাত অল্প বয়সের চপলতা ও আবেগের বশে তারা এই কাজ করে ফেলেছিল। আটকের পর আইনি জটিলতা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে তারা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। তবে একজন রাজনৈতিক নেতার এমন মহানুভবতায় তারা বিস্মিত ও কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবে না বলে তারা অঙ্গীকার করে।

এই বিষয়ে রাশেদ খাঁন জানান, রাজনীতি হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণের জন্য, প্রতিহিংসার জন্য নয়। তিনি বলেন, “আটক হওয়া সবাই কিশোর। সামান্য ভুলের কারণে মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হোক, সেটি আমি চাই না। আজ আমি কঠোর হলে তারা হয়তো ভয় পেত, কিন্তু সমাজকে ইতিবাচক কিছু দিতে পারত না। আমি চেয়েছি তারা তাদের ভুল বুঝতে পারুক এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক। ক্ষমা ও ভালোবাসা দিয়েই মানুষের মন জয় করা সম্ভব।”

নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে এমন মানবিক ও সহনশীল আচরণের দৃষ্টান্ত ঝিনাইদহ-৪ আসনের রাজনীতিতে এক নতুন বার্তা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সহনশীল পরিবেশ বজায় থাকলে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও সুসংহত হবে। কিশোরদের পরিবারের সদস্যরাও রাশেদ খাঁনের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রমাণ করেছে বিএনপি সরকার: অর্থমন্ত্রী

প্রতিহিংসা নয় মানবিকতা: পোস্টার ছেঁড়া সেই তিন কিশোরকে থানা থেকে মুক্ত করলেন রাশেদ খাঁন

আপডেট সময় : ০২:১৮:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনী প্রচারণার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে আটক তিন কিশোরকে কোনো প্রকার আইনি জটিলতা ছাড়াই থানা থেকে ছাড়িয়ে এনেছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খাঁন। শুক্রবার রাতে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুশোবাড়িয়া বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে প্রার্থীর এমন মানবিক আচরণ স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার রাতে কুশোবাড়িয়া বাজার এলাকায় রাশেদ খাঁনের নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এর বেশ কিছু পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে ওই তিন কিশোরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে গেলে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিষয়টি জানার পর রাশেদ খাঁন কঠোর কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে বরং সহনশীলতার পরিচয় দেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন এবং কিশোরদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। প্রার্থীর সদিচ্ছায় পুলিশ ওই কিশোরদের মুক্তি দেয়।

পুলিশ হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে ওই তিন কিশোর। তারা জানায়, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা কারো প্ররোচনায় নয়, বরং নেহাত অল্প বয়সের চপলতা ও আবেগের বশে তারা এই কাজ করে ফেলেছিল। আটকের পর আইনি জটিলতা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে তারা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। তবে একজন রাজনৈতিক নেতার এমন মহানুভবতায় তারা বিস্মিত ও কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবে না বলে তারা অঙ্গীকার করে।

এই বিষয়ে রাশেদ খাঁন জানান, রাজনীতি হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণের জন্য, প্রতিহিংসার জন্য নয়। তিনি বলেন, “আটক হওয়া সবাই কিশোর। সামান্য ভুলের কারণে মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হোক, সেটি আমি চাই না। আজ আমি কঠোর হলে তারা হয়তো ভয় পেত, কিন্তু সমাজকে ইতিবাচক কিছু দিতে পারত না। আমি চেয়েছি তারা তাদের ভুল বুঝতে পারুক এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক। ক্ষমা ও ভালোবাসা দিয়েই মানুষের মন জয় করা সম্ভব।”

নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে এমন মানবিক ও সহনশীল আচরণের দৃষ্টান্ত ঝিনাইদহ-৪ আসনের রাজনীতিতে এক নতুন বার্তা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সহনশীল পরিবেশ বজায় থাকলে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও সুসংহত হবে। কিশোরদের পরিবারের সদস্যরাও রাশেদ খাঁনের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।