চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এক সরকারি কর্মচারীকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বীরেশ্বরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে এই দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মো. এরফান আলী, যিনি ঢাকা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে কর্মরত রয়েছেন।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এরফান আলী নিজ বাড়িতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে একটি সভার আয়োজন করেন। অভিযোগ ওঠে, ওই সভায় তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া শিক্ষকদের নিয়ে গোপন বৈঠকে লিপ্ত ছিলেন। একইসঙ্গে উক্ত অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত ওই প্রার্থী সেখানে উপস্থিত হননি।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম হোসেনের নেতৃত্বে বীরেশ্বরপুর গ্রামে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন। অভিযানে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এরফান আলীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম হোসেন জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি নির্বাচনী আইন অমান্য করেন কিংবা কোনো বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালান, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বচ্ছ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে এই ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















