আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-২ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনকে নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জয়ের জন্য মরিয়া এই প্রার্থী ভোটব্যাংক ভারী করতে নিজ দলের কর্মী হত্যার আসামিদের সঙ্গে আপস করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে আলোচিত ‘রামগঞ্জ ট্রাজেডি’র আসামিদের মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস ও তাদের দলে ভেড়ানোর বিষয়টি নিয়ে খোদ বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেই তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের আত্মীয় হওয়ার সুবাদে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসন থেকে তুহিনের নির্বাচন করার কথা ছিল। কিন্তু জোটগত সমীকরণে আসনটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেওয়ায় তিনি শেষ মুহূর্তে নীলফামারী-২ (সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নতুন নির্বাচনী এলাকায় এসে একদিকে যেমন তিনি নিজ দলের একাংশের অসহযোগিতার মুখে পড়েছেন, অন্যদিকে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাচ্ছেন না। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি এখন আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক ও সংখ্যালঘু ভোটারদের দিকে নজর দিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, নীলফামারীর আলোচিত রামগঞ্জ ট্রাজেডিতে বিএনপি কর্মী হত্যার আসামিদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করছেন তুহিন। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে তিনি ওই মামলার আসামিদের বিএনপিতে যোগদানের সুযোগ করে দিচ্ছেন এবং বিজয়ী হলে মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি পুলিশি হয়রানি বন্ধের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত এক ডজন নেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং তাদের মাধ্যমে ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
আদর্শিক অবস্থান বিসর্জন দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে এমন সখ্যতা নিয়ে খোদ নীলফামারী জেলা বিএনপির ভেতরেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ত্যাগী কর্মীরা বিষয়টিকে দলের জন্য অবমাননাকর হিসেবে দেখছেন।
রামগঞ্জ ট্রাজেডিতে নিহত লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর স্ত্রী শাহানাজ বেগম এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “যাদের হাতে আমার স্বামী খুন হয়েছেন, তাদের সঙ্গেই এখন দলের প্রার্থী আপস করছেন। তুহিন সাহেব আমাদের কোনো খোঁজখবর নেন না, উল্টো খুনিদের আশ্রয় দিচ্ছেন। স্বামীর হত্যাকারীদের প্রতি দলের এমন আচরণে আমরা মর্মাহত।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক জানান, এ ধরনের কোনো সমঝোতা বা খুনের মামলার আসামিদের দলে ভেড়ানোর বিষয়টি তার জানা নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নির্বাচনী এলাকায় নিজের অবস্থান শক্ত করতে গিয়ে তুহিন যে পথ বেছে নিয়েছেন, তা দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় বিএনপিতে বিভেদ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ভোটের মাঠে এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, তা নিয়ে জেলাজুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 






















