রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। শনিবার বিকেলে কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা রেলওয়ে ব্রিজের পাশে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। ইশতেহারে তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পৃথক ‘চর মন্ত্রণালয়’ গঠনের প্রস্তাবসহ ৪৯ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে আখতার হোসেন বলেন, তিস্তা নদী এই অঞ্চলের মানুষের জন্য কেবল সংকটের কারণ নয়, বরং এটি উন্নয়নের এক বিশাল সম্ভাবনার নাম। বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সব বড় বড় শহর ও সভ্যতা নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে তিস্তা আজ উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত হলে তিস্তাকে ঘিরেই এই অঞ্চলের অর্থনীতির নতুন দ্বার উন্মোচন করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
১০টি খাতের অধীনে ঘোষিত এই ইশতেহারে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আখতার হোসেন প্রতিশ্রুতি দেন যে, প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সরকারি বরাদ্দপত্র উন্মুক্ত রাখা হবে এবং প্রতি তিন মাস অন্তর জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে। এছাড়া নাগরিকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বিশেষ ‘জনসেবা সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের উন্নয়নে তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে নরমাল ডেলিভারি সেন্টার স্থাপন, সরকারি হাসপাতালগুলোকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনা এবং পাবলিক প্লেসে নারীদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার ও আধুনিক শৌচাগার নির্মাণের অঙ্গীকার করেন। এছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বার্ষিক বৃত্তি ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং যুব ও নারী উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেন তিনি।
অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে ইশতেহারে পীরগাছা ও কাউনিয়া অঞ্চলে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা ইপিজেড প্রতিষ্ঠা, বিদ্যমান রেললাইন সংস্কার করে ব্রডগেজ লাইনে রূপান্তর এবং আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার সব কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তিতে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন এই প্রার্থী।
কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের কৃষকদের সুরক্ষা দিতে পাট ও আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণের অঙ্গীকারও রয়েছে তাঁর ইশতেহারে। এছাড়া তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার এবং নদী তীরের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের দাবিকে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানান।
ইশতেহার ঘোষণার সময় জীর্ণ ও জরাজীর্ণ তিস্তা রেলওয়ে সেতুটির প্রেক্ষাপট উপস্থিত জনতার মাঝে এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলার চিত্রই ফুটিয়ে তোলে। অনুষ্ঠানে এনসিপির রংপুর মহানগর ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 






















